আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব

দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব, কুরআন ও হাদিসের দলিল, দাওয়াত দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি, একজন দায়ীর গুণাবলি এবং বর্তমান যুগে দাওয়াতের সুযোগ ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد،

হে ঈমানদারগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি।

আজকের খুতবার বিষয়— “দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব”।

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

দাওয়াত ইলাল্লাহ (আল্লাহর পথে আহ্বান) হলো নবী-রাসূলদের মহান দায়িত্ব এবং উম্মতে মুহাম্মদীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ইসলাম শুধু নিজের জন্য পালন করার ধর্ম নয়; বরং অন্যদের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছে দেওয়াও একজন মুসলিমের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾

অর্থ: “তোমার প্রতিপালকের পথে মানুষকে আহ্বান কর প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে আলোচনা কর।”
(সূরা আন-নাহল: ১২৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

﴿وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ﴾

অর্থ: “তার কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’”
(সূরা ফুসসিলাত: ৩৩)

দাওয়াতের গুরুত্ব

প্রিয় মুসল্লিগণ!

সমস্ত নবী-রাসূলের মূল দায়িত্ব ছিল মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দাওয়াতের কাজ করেছেন। তিনি মক্কায়, মদিনায়, সফরে, মসজিদে, বাজারে—সর্বত্র মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً»

অর্থ: “তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।”
(সহিহ আল-বুখারি)

আরও বলেছেন—

«لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ»

অর্থ: “আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (অমূল্য সম্পদ)-এর চেয়েও উত্তম।”
(সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

দাওয়াতি কাজের বৈশিষ্ট্য

  • কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর ভিত্তিতে দাওয়াত দেওয়া।
  • হিকমত ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে আহ্বান করা।
  • ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করা।
  • নিজের আমলের মাধ্যমে দাওয়াতকে প্রভাবশালী করা।
  • অহংকার, কঠোরতা ও গালিগালাজ থেকে বিরত থাকা।

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.


দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আজ দাওয়াতের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। মসজিদের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দাওয়াত অবশ্যই হতে হবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নম্রতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। তারাই সফলকাম।”
(সূরা আলে ইমরান: ১০৪)

আমাদের করণীয়

  • নিজে কুরআন ও সুন্নাহ শিখে অন্যদের শেখানো।
  • পরিবারে ইসলামী পরিবেশ গড়ে তোলা।
  • সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা।
  • উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া।
  • মিথ্যা, বিদআত ও কুসংস্কার থেকে মানুষকে সতর্ক করা।
  • দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্য, নম্রতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখা।
  • ইসলামী শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করা।

দোয়া

اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الدُّعَاةِ إِلَى سَبِيلِكَ، وَارْزُقْنَا الْحِكْمَةَ وَالإِخْلَاصَ، وَاجْعَلْ أَعْمَالَنَا خَالِصَةً لِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ، وَاهْدِ بِنَا وَاهْدِ عَلَى أَيْدِينَا.

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার পথে আহ্বানকারী বানান। আমাদেরকে প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা ও উত্তম চরিত্র দান করুন। আমাদের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েত দান করুন এবং আমাদের সকল কাজ আপনার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. فَاذْكُرُوا اللَّهَ يَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوهُ عَلَى نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ. وأقم الصلاة.

খতিবের জন্য উপসংহার

দাওয়াতি কাজ শুধু আলেমদের দায়িত্ব নয়; বরং প্রত্যেক মুসলিম তার জ্ঞান ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বহন করে। তবে দাওয়াত হতে হবে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক, প্রজ্ঞাপূর্ণ, সদাচরণপূর্ণ এবং মানুষের কল্যাণকামী। যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে, সে নবী-রাসূলদের উত্তরাধিকার বহন করে এবং মহান প্রতিদানের অধিকারী হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দাওয়াতি কাজের তাওফীক দান করুন। আমীন।