আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

কুরআনের সাথে জীবনের সম্পর্ক

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد، فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد ﷺ، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

হে মুসল্লিগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ করো না।”

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কুরআন নাযিল করেছেন। কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এটি আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ﴾

অর্থ: “নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয়, যা সর্বাধিক সঠিক ও সুদৃঢ়।” (সূরা আল-ইসরা: ৯)

আরও বলেন—

﴿وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ﴾

অর্থ: “আমি আপনার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছি, যা সব বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।” (সূরা আন-নাহল: ৮৯)

প্রিয় মুসল্লিগণ!

আজ আমাদের ঘরে কুরআন আছে, কিন্তু অনেকের জীবনে কুরআনের শিক্ষা নেই। আমরা তিলাওয়াত করি, কিন্তু আমল করি না। অথচ কুরআন আমাদেরকে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ন্যায়বিচার, দয়া, ক্ষমা, আত্মসংযম এবং উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

«خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ»

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”

সম্মানিত ভাইয়েরা!

কুরআনের সাথে সম্পর্কের পাঁচটি স্তর রয়েছে—

১. নিয়মিত তিলাওয়াত করা।
২. অর্থ ও তাফসীর বুঝে পড়া।
৩. কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী আমল করা।
৪. সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া।
৫. সমাজে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া।

যে ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত হয়, সে ঘরে বরকত নাযিল হয়। যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, আল্লাহ তার জীবন সহজ করে দেন এবং আখিরাতে মর্যাদা দান করেন।

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.

দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আমরা যেন কুরআনকে শুধু রমাদানের বই না বানাই। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করি, অর্থ বুঝে পড়ি এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى﴾

অর্থ: “যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগ্যগ্রস্তও হবে না।” (সূরা ত্ব-হা: ১২৩)

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কুরআনের মানুষ বানিয়ে দিন। কুরআন বুঝে পড়ার, আমল করার এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফীক দান করুন।

اللَّهُمَّ اجْعَلِ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قُلُوبِنَا، وَنُورَ صُدُورِنَا، وَجَلَاءَ أَحْزَانِنَا، وَذَهَابَ هُمُومِنَا.

ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار.

عباد الله، إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ.

وأقم الصلاة.