আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

অহংকার ও আত্মম্ভরিতার পরিণতি

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

أما بعد،

হে ঈমানদারগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ করো না।”
(সূরা আলে ইমরান: ১০২)

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আজকের খুতবার বিষয়— “অহংকার ও আত্মম্ভরিতার পরিণতি”

অহংকার (কিবর) এমন একটি মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি, যা মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে এবং অন্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে শেখায়। এটি ছিল ইবলিসের প্রথম গুনাহ, যার কারণে সে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ﴾

অর্থ: “আমি যখন ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সিজদা করো’, তখন সবাই সিজদা করল; কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করল, অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।”
(সূরা আল-বাকারা: ৩৪)

আরও বলেন—

﴿إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ﴾

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না।”
(সূরা আন-নাহল: ২৩)

অহংকারের প্রকৃত অর্থ

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ»

অর্থ: “অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।”
(সহিহ মুসলিম)

অহংকারের ভয়াবহ পরিণতি

১. আল্লাহর অসন্তুষ্টি লাভ।

২. সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়।

৩. মানুষকে অবজ্ঞা করার অভ্যাস তৈরি হয়।

৪. সমাজে হিংসা, বিভেদ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।

৫. আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হয়।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ»

অর্থ: “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
(সহিহ মুসলিম)

অহংকারের কিছু প্রকাশ

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.


দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

ইসলাম আমাদের বিনয় ও নম্রতার শিক্ষা দেয়। রাসূল ﷺ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, কিন্তু তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিনয়ী। তিনি নিজ হাতে কাজ করতেন, দরিদ্রদের পাশে বসতেন, শিশুদের সালাম দিতেন এবং মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত নম্র আচরণ করতেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا﴾

অর্থ: “পৃথিবীতে অহংকারভরে চলাফেরা করো না। তুমি কখনো জমিন বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড়ের সমানও হতে পারবে না।”
(সূরা আল-ইসরা: ৩৭)

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ اللَّهُ»

অর্থ: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদায় উন্নীত করেন।”
(সহিহ মুসলিম)

অহংকার থেকে বাঁচার উপায়

দোয়া

اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ الْكِبْرِ وَالْعُجْبِ وَالرِّيَاءِ، وَزَيِّنَّا بِالتَّوَاضُعِ وَحُسْنِ الْأَخْلَاقِ، وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الْمُخْلِصِينَ.

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও লোকদেখানো আমল থেকে পবিত্র করুন। আমাদেরকে বিনয়, নম্রতা ও উত্তম চরিত্র দ্বারা সুশোভিত করুন এবং আমাদেরকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

فَاذْكُرُوا اللَّهَ الْعَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوهُ عَلَى نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.

وأقم الصلاة.

খতিবের জন্য উপসংহার

অহংকার মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রকে ধ্বংস করে; আর বিনয় মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আসুন, আমরা ইবলিসের অহংকার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিনয়ী চরিত্রকে অনুসরণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অহংকার ও আত্মম্ভরিতা থেকে রক্ষা করুন এবং বিনয়ী, কৃতজ্ঞ ও তাকওয়াবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।