
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد، فاتقوا الله عباد الله، فإن تقوى الله خير زاد ليوم المعاد.
সম্মানিত উপস্থিত মুসল্লিগণ!
আল্লাহ তাআলা মানুষকে একা একা জীবন পরিচালনার জন্য সৃষ্টি করেননি। বরং তিনি মানুষকে সমাজবদ্ধভাবে জীবনযাপন করতে এবং দ্বীনের কাজ একসাথে করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাতিলের মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ .
অর্থ: “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা মানুষের কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
এই আয়াতে “أمة“ শব্দটি একটি সংগঠিত জামাআত বা দলের প্রতি ইঙ্গিত করে, যারা দ্বীনের দাওয়াত ও সংস্কারের কাজ করবে
আল্লাহ বলেন—
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا .
অর্থ: “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)
এই আয়াত মুসলিমদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংগঠিত থাকার নির্দেশ দেয়।
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ .
অর্থ: “আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় যেন তারা সীসা-ঢালা প্রাচীর।” (সূরা আস-সাফ: ৪)
এখানে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সংগঠনের শক্তিকে তুলে ধরা হয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
يَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ .
অর্থ: “আল্লাহর সাহায্য জামাআতের সঙ্গে থাকে।” (তিরমিযী)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالْفُرْقَةَ .
অর্থ: “তোমরা জামাআতকে আঁকড়ে ধরো, বিচ্ছিন্নতা থেকে বেঁচে থাকো।” (তিরমিযী)
রাসূল ﷺ বলেন—
الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا .
অতঃপর তিনি নিজের হাতের আঙুলগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।
অর্থ: “একজন মুমিন অন্য মুমিনের জন্য একটি ভবনের মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।”
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
একজন ব্যক্তি যতটুকু করতে পারেন, একটি সংগঠন তার চেয়ে বহুগুণ বেশি কাজ করতে পারে।
সংগঠনের মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
ইসলাম শৃঙ্খলার ধর্ম। সংগঠন মানুষকে সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীলতা ও আনুগত্য শিক্ষা দেয়।
বাতিল শক্তি সবসময় সংগঠিত। তাই হক প্রতিষ্ঠার জন্যও সংগঠিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মক্কায় রাসূল ﷺ প্রথমে অল্পসংখ্যক সাহাবিকে নিয়ে দ্বীনের কাজ শুরু করেন। দারুল আরকাম ছিল প্রথম ইসলামী প্রশিক্ষণকেন্দ্র।
মদীনায় হিজরতের পর তিনি—
এসবই একটি সুশৃঙ্খল ইসলামী সমাজ ও সংগঠনের বাস্তব নমুনা।
যখন গাযওয়ায়ে বদর সংঘটিত হয়, মুসলমান ছিল মাত্র ৩১৩ জন। কিন্তু তারা ছিল ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। ফলে আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেন।
অপরদিকে উহুদের যুদ্ধে কিছু তীরন্দাজ রাসূল ﷺ-এর নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের অবস্থান ছেড়ে দিলে সাময়িক বিপর্যয় নেমে আসে। এটি শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব মানার গুরুত্বের শিক্ষা দেয়।
যে কোনো ইসলামী সংগঠনে কাজ করার সময়—
১. ইসলামের কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করা।
২. মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
৩. দাওয়াত, শিক্ষা ও সেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া।
৪. মুসলিমদের ঐক্য রক্ষা করা।
৫. কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর অনুসরণে পরিচালিত নেক কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ .
অর্থ: “তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)
প্রিয় ভাইয়েরা,
ইসলামী সংগঠনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, বংশ বা পার্থিব স্বার্থ প্রতিষ্ঠা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, সমাজে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। তবে যে কোনো সংগঠনকে অবশ্যই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নীতিমালার অনুসারী হতে হবে এবং বিভেদ, গোঁড়ামি ও অন্যায় পক্ষপাত থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلَامِ، وَاجْعَلْنَا مِنْ دُعَاةِ الْخَيْرِ، وَأَعِنَّا عَلَى خِدْمَةِ دِينِكَ، وَتَقَبَّلْ مِنَّا، إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরগুলোতে ঐক্য দান করুন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করুন, আমাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন, আমাদের কল্যাণের দাওয়াতদাতা বানান, আপনার দ্বীনের খেদমত করার তাওফীক দিন এবং আমাদের আমল কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
ইসলামী ও কল্যাণমূলক কাজ একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এখানে প্রত্যেকের দায়িত্ব, দক্ষতা ও শ্রম গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংগঠনের বাহ্যিক কাঠামো যত শক্তিশালী হোক, কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দুর্বল হলে সেই কাজ দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারে না।
তাই কর্মীদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, আস্থা, সহযোগিতা, পরামর্শ ও ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ .
“মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।” —সূরা আল-হুজুরাত: ১০
এই আয়াত মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি মৌলিক ভিত্তি তুলে ধরে।
একজন কর্মী অন্য কর্মীর শুধু সহকর্মী নন; তিনি তার ঈমানি ভাই। তাই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রাখতে হবে।
কোনো ভাই আমার প্রশংসা করলেই শুধু তাকে ভালোবাসব—এমন নয়। বরং সে আমার ভুল ধরিয়ে দিলে, আমাকে সংশোধনের পরামর্শ দিলে এবং কল্যাণ কামনা করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
সম্মিলিত কাজের ক্ষেত্রে একজনের শক্তি অন্যজনের দুর্বলতা পূরণ করতে পারে।
কেউ নতুন হলে তাকে শেখাতে হবে।
কেউ কোনো দায়িত্বে দুর্বল হলে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।
কেউ সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
অন্যকে এগিয়ে দেওয়া মানে নিজে পিছিয়ে যাওয়া নয়; বরং সম্মিলিত কাজকে এগিয়ে নেওয়া।
পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার অন্যতম কারণ হলো গীবত, পরনিন্দা ও কানকথা।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-হুজুরাতে উপহাস, অপমান, কু-ধারণা, অনুসন্ধান ও গীবত থেকে সতর্ক করেছেন।
কোনো ভাইয়ের সমস্যা থাকলে তার অনুপস্থিতিতে আলোচনা না করে তার সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত।
কারও সম্পর্কে কোনো কথা শুনলে যাচাই না করে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক সুন্দর রাখার জন্য পরস্পরের ব্যাপারে ভালো ধারণা রাখা জরুরি।
কেউ ফোন ধরেনি—তাই সে আমাকে অবহেলা করছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়।
কেউ আমার মত গ্রহণ করেনি—তাই সে আমাকে বিরোধিতা করছে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।
অনেক সময় আমরা বাস্তবতা না জেনেই নিজের ধারণাকে সত্য মনে করি। তাই প্রয়োজন হলে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।
সম্মিলিত কাজে মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মতভেদকে ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়।
কোনো বিষয়ে মত ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু ব্যক্তির প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ .
“তাদের কার্যাবলি পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।” —সূরা আশ-শূরা: ৩৮
তাই মতভেদ হলে যুক্তি, পরামর্শ ও শূরার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।
দায়িত্বশীলের উচিত কর্মীদের কথা শোনা, তাদের সমস্যা বোঝা, উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া।
অন্যদিকে কর্মীর উচিত দায়িত্বশীলের প্রতি সম্মান বজায় রাখা, যথাযথ পরামর্শ দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা করা।
কোনো সমস্যা হলে আড়ালে আলোচনা না করে যথাযথ ব্যক্তির কাছে তা উপস্থাপন করা অধিক ফলপ্রসূ।
দায়িত্বকে মর্যাদা বা প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে না দেখে আমানত হিসেবে দেখা উচিত।
কেউ দায়িত্ব পেলেন আর আমি পেলাম না—এ কারণে হিংসা বা দূরত্ব সৃষ্টি করা উচিত নয়।
বরং অন্য ভাইয়ের ভালো কাজ ও সাফল্যে আনন্দিত হওয়া উচিত।
নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—
“আমি কি নিজের পরিচিতি বাড়াতে চাই, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজকে এগিয়ে নিতে চাই?”
প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব শুধু আনন্দের সময় পাশে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
কোনো ভাই অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, সমস্যায় পড়লে সহযোগিতা করা, মানসিকভাবে দুর্বল হলে তার কথা শোনা এবং কাজের প্রয়োজনে সহায়তা করা—এসব পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।
১. প্রত্যেক কর্মীকে ঈমানি ভাই হিসেবে দেখব।
২. গীবত, অপবাদ ও কানকথা থেকে বাঁচব।
৩. মতভেদকে ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত করব না।
৪. ভুল হলে সুন্দরভাবে সংশোধনের চেষ্টা করব।
৫. অন্যের ভালো কাজে সহযোগিতা করব।
৬. দায়িত্ব ও পদকে আমানত হিসেবে দেখব।
৭. বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়াব।
নিজের কাছে প্রশ্ন করি—
আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন, তারা কি আমাকে আপন মনে করেন?
অন্য কোনো ভাই দায়িত্ব পেলে আমি কি আন্তরিকভাবে আনন্দিত হই?
আমি কি কারও অনুপস্থিতিতে তার আলোচনা করি?
মতভেদ হলে আমি কি ব্যক্তিগত বিরোধে জড়িয়ে পড়ি?
আমার আচরণ কি ঐক্য বাড়াচ্ছে, নাকি দূরত্ব সৃষ্টি করছে?
একটি সম্মিলিত কাজের বড় শক্তি হলো পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ব। কর্মীরা যদি একে অপরের দুর্বলতা পূরণ করেন, ভালো কাজে সহযোগিতা করেন, ভুল হলে সংশোধন করেন এবং আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসেন—তাহলে সম্মিলিত কাজ আরও ফলপ্রসূ হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তর থেকে হিংসা, অহংকার ও বিদ্বেষ দূর করুন এবং আমাদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করুন। আমিন।
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Manage your cookie preferences below:
Essential cookies enable basic functions and are necessary for the proper function of the website.
These cookies are needed for adding comments on this website.
These cookies are used for managing login functionality on this website.
Statistics cookies collect information anonymously. This information helps us understand how visitors use our website.
Google Analytics is a powerful tool that tracks and analyzes website traffic for informed marketing decisions.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
Marketing cookies are used to follow visitors to websites. The intention is to show ads that are relevant and engaging to the individual user.
Google Maps is a web mapping service providing satellite imagery, real-time navigation, and location-based information.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
You can find more information in our Cookie Policy and .