আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

ل এর বিবরণ

ক। আল্লাহ শব্দের ডানে যবর অথবা পেশ আসলে আল্লাহ শব্দের ”লাম” কে পোর অথবা মোটা করে পড়তে হয়। যেমন :

اَللّٰهُ  ،  فَاللّٰهُ  ،  تَاللّٰهِ  ،  رَسُوْلُ اللّٰهِ  ،  مِنَ اللّٰهِ  ،  اَللّٰهُمَّ  ، 

খ। আল্লাহ শব্দের ডানে জের আসলে আল্লাহ শব্দের “লাম” কে  বারিক অথবা পাতলা করে পড়তে হয়। যেমন : 

قُلِ اللّٰهُمَّ  ،  بِسْمِ اللّٰهِ  ،  بِاللّٰهِ   ،  لِلّٰهِ،  

লাম (ل) মোটা ও চিকন করার বিস্তারিত নিয়ম

আরবি ل (লাম) সাধারণভাবে বারিক/চিকন (ترقيق) উচ্চারিত হয়। তবে لفظ الجلالة “الله”-এর লাম বিশেষ নিয়মে কখনো মোটা (تفخيم) এবং কখনো চিকন (ترقيق) পড়া হয়।

১. লাম মোটা বা ফখম (تفخيم)

“الله” শব্দের লাম মোটা করে পড়তে হবে, যদি এর আগে যবর (َ) অথবা পেশ (ُ) থাকে।

অর্থাৎ, الله-এর আগে—

  • যবর (َ) থাকলে → লাম মোটা
  • পেশ (ُ) থাকলে → লাম মোটা

উদাহরণ

قَالَ اللهُ
উচ্চারণ: ক্বালাল্লাহু

এখানে “الله”-এর আগে قَالَ শব্দের শেষে যবর আছে। তাই লাম মোটা হবে।

আরেকটি:

عَبْدُ اللهِ
উচ্চারণ: আব্দুল্লাহি

এখানে “الله”-এর আগে دُ-তে পেশ আছে। তাই লাম মোটা হবে।

আরও উদাহরণ

  • وَاللهُ → ওয়াল্লাহু
  • تَاللَّهِ → তাল্লাহি
  • نَصْرُ اللهِ → নাসরুল্লাহি
  • رَسُولُ اللهِ → রাসূলুল্লাহি

নিয়ম:

الله-এর আগে যবর বা পেশ থাকলে ل মোটা হবে।

২. লাম চিকন বা তারকীক (ترقيق)

“اللَّه” শব্দের লামের আগে যদি জের (ِ) থাকে, তাহলে লাম চিকন/বারিক করে পড়তে হবে।

উদাহরণ

بِسْمِ اللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি

এখানে “الله”-এর আগে مِ-তে জের আছে। তাই لام لفظ الجلالة চিকন হবে।

আরেকটি:

لِلَّهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ: লিল্লাহিল হামদু

এখানে “الله”-এর আগে لِ-তে জের আছে। তাই লাম চিকন হবে।

আরও উদাহরণ

  • بِاللهِ → বিল্লাহি
  • لِلَّهِ → লিল্লাহি
  • فِي اللهِ → ফিল্লাহি
  • بِسْمِ اللهِ → বিসমিল্লাহি

নিয়ম:

الله-এর আগে জের থাকলে ل চিকন হবে।

৩. একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এখানে শুধু “الله” শব্দের আগের হরকত দেখতে হবে।

যেমন:

قَالَ اللهُ

এখানে “الله”-এর ঠিক আগে لَ আছে → যবর → ل মোটা।

بِسْمِ اللهِ

এখানে “الله”-এর ঠিক আগে مِ আছে → জের → ل চিকন।

رَسُولُ اللهِ

এখানে “الله”-এর ঠিক আগে لُ আছে → পেশ → ل মোটা।

৪. ওয়াকফ বা থামার সময় কী হবে?

কখনো কোনো আয়াত বা শব্দের শেষে الله এসে সেখানে ওয়াকফ করলে, তখন শেষের হরকত উচ্চারণ করা হয় না। কিন্তু الله-এর আগের হরকত বিবেচনা করা হবে।

উদাহরণ:

وَهُوَ اللهُ

এখানে “الله”-এর আগে وَ → যবর, তাই লাম মোটা।

আবার:

بِسْمِ اللهِ

এখানে আগে مِ → জের, তাই লাম চিকন।

৫. সহজে মনে রাখার নিয়ম

“الله”-এর আগেل-এর হুকুমউচ্চারণ
যবর (َ)মোটাتفخيم
পেশ (ُ)মোটাتفخيم
জের (ِ)চিকনترقيق

মনে রাখার সূত্র:

যবর + পেশ = মোটা
জের = চিকন

৬. কুরআনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

মোটা লাম

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ

এখানে اللَّهُ-এর লাম মোটা।

رَسُولُ اللَّهِ

এখানে رَسُولُ-এর শেষে পেশ থাকায় اللَّهِ-এর লাম মোটা।

نَصْرُ اللَّهِ

এখানেও نَصْرُ-এর শেষে পেশ → লাম মোটা।

চিকন লাম

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

এখানে بِسْمِ-এর শেষে জের → الله-এর লাম চিকন।

لِلَّهِ الْحَمْدُ

এখানে لِ-এর জের → الله-এর লাম চিকন।

৭. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

লাম (ل) সাধারণ অবস্থায় মূলত চিকন হরফ।
অর্থাৎ প্রতিটি ل-কে ইচ্ছামতো মোটা করা যাবে না।

লাম মোটা হওয়ার বিশেষ ক্ষেত্রটি মূলত لفظ الجلالة (الله)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সুতরাং:

الله → আগের হরকত দেখে মোটা/চিকন
সাধারণ ل → সাধারণত চিকন

সংক্ষিপ্ত চার্ট

لَ + الله → মোটা
لُ + الله → মোটা
لِ + الله → চিকন

যেমন—

قَالَ اللهُ → মোটা
رَسُولُ اللهِ → মোটা
بِسْمِ اللهِ → চিকন
لِلَّهِ → চিকন

এটাই লাম-এর তাফখীম (মোটা) ও তারকীক (চিকন)-এর মূল নিয়ম।