আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

ر পড়ার নিয়ম :

ر হরফ দুই প্রকারে পড়তে হয় :

(১) পোর বা মোটা  (২) বারিক বা চিকন

ক। ر হরফের উপরে জবর অথবা পেশ আসলে ر  কে পোর করে পড়তে হয়। যেমন :

رَسُوْلٌ ‘  رُسُلُهُمْ ،

খ। ر সাকিনের ডানে জবর আসলে ر কে পোর করে পড়তে হয়। যেমন :

اَرْكِسُوْ

يَرْجِعُوْنَ

গ। ر সাকিনের ডানে আরযী জের আসলে ر কে পোর করে পড়তে হয়। যমন :

مَنِ ارْتَضٰى
اِنِ ارْتَبْتُمْ 
رَبِّ ارْجِعُوْنَ

ঘ। ر সাকিনের ডানে জের আসলে বামে হরফে মুস্তালিয়ার কোন হরফ আসলে ر কে পোর করে পড়তে হয়। যেমন :

وَاِرْصَادًا

قِرْطَاسٌ

فِرْ قَةٌ 

لَبِالْمِـرْصَادِ

ঙ। ر ছাকিনের ডানে ইয়া ছাকিন ব্যতীত অন্য হরফ ছাকিন এবং তার ডানে যবর অথবা পেশ আসলে ر কে পোর করে পড়তে হয়। যেমন :

فَـجْرٌ 

شَهْرٌ       

خُسْـرٍ      

ر    বারিক বা চিকন

ক। ر হরফে জের আসলে ر  কে বারিক করে পড়তে হয়। যেমন :

رِجَالٌ 

رِكْزٌ

كَرِيْمٌ

رِسَالَةٌ

খ। ر   ছাকিনের ডানে আছলী জের থাকলে ر   কে বারিক করে পড়তে হয়। যেমন :

مِـرْفٰقًا

فِرْعَوْنَ

গ। ر হরফে ওয়াক্বফ, ডানে “ইয়া” ছাকীন তার ডানে জবর আসলে ر কে বারিক করে পড়তে হয়। যেমন :

خَيْرٌ

خَيْرٌ

صَيْرٌ

ঘ। ر হরফে ওয়াক্বফ, ডানে “ইয়া” ব্যতিত অন্য হরফে সাকিন তার ডানের হরফে যের থাকলে ر কে বারিক করে পড়তে হয়। যেমন :

ذِكْرٌ 

شِعْـرٌ 

حِـجْرٌ 

ر (রা)-এর মোটা ও চিকন করার বিস্তারিত নিয়ম

আরবি ر-কে তাজবিদে راء (রা) বলা হয়।

রা-এর প্রধান দুই অবস্থা:

  1. تفخيم (তাফখীম) — মোটা/ভারী করে পড়া
  2. ترقيق (তারকীক) — চিকন/হালকা করে পড়া

🟢 ১. ر মোটা করে পড়ার নিয়ম — تفخيم

ر-এর ওপর যবর (َ) বা পেশ (ُ) থাকলে রা মোটা করে পড়তে হবে।

উদাহরণ

رَ → رَحْمَٰنُ
رُ → رُسُلٌ

অর্থাৎ—

  • رَ = মোটা
  • رُ = মোটা

কুরআনের উদাহরণ

رَبِّ الْعَالَمِينَ

এখানে رَ-তে যবর → রা মোটা।

رُسُلٌ

এখানে رُ-তে পেশ → রা মোটা।

🟢 ২. ر-এর ওপর সুকুন থাকলে

যদি رْ সাকিন হয়, তাহলে রা-এর আগের হরকত দেখতে হবে।

আগের হরফে যবর বা পেশ থাকলে → ر মোটা

مَرْيَمَ

এখানে رْ সাকিন এবং তার আগে مَ-তে যবর। তাই রা মোটা।

قُرْآنٌ

এখানে رْ সাকিন এবং তার আগে قُ-তে পেশ। তাই রা মোটা।

নিয়ম

رْ-এর আগে যবর বা পেশ → ر মোটা।

🟢 ৩. ر-এর ওপর জের থাকলে → চিকন

যদি رِ হয়, তাহলে রা চিকন করে পড়তে হবে।

উদাহরণ

رِ → رِجَالٌ

এখানে রা-এর নিচে জের আছে, তাই ر চিকন।

আরেকটি:

فِرْعَوْنَ

এখানে প্রথম رْ সাকিন, কিন্তু তার আগে فِ-তে জের আছে। তাই রা চিকন।

🟢 ৪. رْ সাকিন এবং আগের হরফে জের থাকলে

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

رْ-এর আগে যদি জের (ِ) থাকে, তাহলে সাধারণভাবে রা চিকন হবে।

উদাহরণ

فِرْعَوْنَ

ভেঙে দেখি:

فِ + رْ

আগের হরফ فِ-তে জের → ر চিকন।

আরেকটি:

مِرْيَةٍ

এখানেও رْ-এর আগে জের → রা চিকন।

🟢 ৫. رْ-এর আগে আসল জের হলে

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। কখনো রা সাকিন এবং তার আগে জের থাকে, কিন্তু সেই জেরটি মূল/আসল জের হলে রা চিকন হবে।

যেমন:

فِرْعَوْنَ

এখানে ফা-এর জের আসল জের। তাই রা চিকন।

🔴 ৬. রা সাকিনের আগে অস্থায়ী জের হলে

কখনো কোনো কারণে রা-এর আগে অস্থায়ী/আরিদ জের আসে। তখন শুধু জের দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

তাজবিদের উচ্চতর পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষেত্রে শব্দের গঠন ও আগের হরফের অবস্থা বিবেচনা করতে হয়।

তাই শিক্ষার্থীদের জন্য মূল নিয়মটি আগে ভালোভাবে আয়ত্ত করা জরুরি:

رْ + আগে জের → সাধারণভাবে চিকন।

🟢 ৭. ر-এর আগে يْ (ইয়া সাকিন) থাকলে

رْ-এর আগে يْ থাকলে রা চিকন হয়।

উদাহরণ

خَيْرْ

এখানে রা সাকিন এবং তার আগে يْ রয়েছে। তাই ওয়াকফের অবস্থায় রা চিকন হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:

خَبِيرٌ

ওয়াকফ করলে:

خَبِيرْ

এখানে রা সাকিন এবং তার আগে ي আছে → রা চিকন।

🟢 ৮. ওয়াকফের সময় ر-এর নিয়ম

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো শব্দের শেষে ر থাকলে এবং আমরা ওয়াকফ করি, তখন রা সাকিন হয়ে যায়।

তখন রা-এর আগের হরকত দেখতে হবে।

আগের হরফে যবর/পেশ → মোটা

الْقَمَرْ

রা-এর আগে مَ → যবর
তাই ওয়াকফে ر মোটা।

الْفَجْرْ

রা-এর আগে جْ, আর তার আগের হরফ فَ-তে যবর → রা মোটা।

আগের হরফে জের → চিকন

خَبِيرْ

রা-এর আগে يِ/ইয়া ধ্বনি → রা চিকন।

قَدِيرْ

এখানেও রা চিকন।

🟡 ৯. ر মোটা ও চিকন—সহজ চার্ট

রা-এর অবস্থাহুকুম
رَ🟢 মোটা
رُ🟢 মোটা
رِ🔵 চিকন
رْ, আগে যবর🟢 মোটা
رْ, আগে পেশ🟢 মোটা
رْ, আগে জের🔵 চিকন
ওয়াকফে ر, আগে যবর🟢 মোটা
ওয়াকফে ر, আগে পেশ🟢 মোটা
ওয়াকফে ر, আগে জের/ইয়া🔵 চিকন

⭐ ১০. বিশেষ কিছু শব্দ

রা-এর কিছু শব্দে বিষয়টি একটু সূক্ষ্ম। যেমন:

مِرْصَادًا

এখানে:

مِ + رْ

আগে জের থাকলেও পরবর্তী অক্ষর ص মোটা হরফ এবং কিছু নির্দিষ্ট তাজবিদি শর্তের কারণে রা মোটা পড়া হয়।

এটি রা-এর বিশেষ ব্যতিক্রমগুলোর একটি।

⭐ ১১. رْ-এর আগে জের, কিন্তু পরে استعلاء-এর হরফ

এটি বিশেষভাবে মনে রাখার বিষয়।

যদি:

رْ সাকিন
এর আগে জের
এবং রা-এর পরে استعلاء-এর মোটা হরফ থাকে,

তাহলে কিছু নির্দিষ্ট শব্দে রা মোটা পড়া হয়।

ইস্তি‘লা হরফ হলো:

خ ص ض غ ط ق ظ

মনে রাখার সহজ সূত্র:

خُصَّ ضَغْطٍ قِظْ

⭐ ১২. ر-এর তিন ধরনের অবস্থা

শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে সহজভাবে:

🟢 মোটা — تفخيم

رَ – رُ – رْ (আগে যবর/পেশ)

🔵 চিকন — ترقيق

رِ – رْ (আগে জের)

🟡 বিশেষ/দুই وجه

কিছু নির্দিষ্ট কুরআনিক শব্দে কিরাআতের নিয়ম অনুযায়ী মোটা বা চিকন—দুইভাবে পড়ার অবকাশ পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ নিয়মের বাইরে এবং উস্তাদের কাছ থেকে শ্রুতিগতভাবে শেখা উত্তম।

📌 মনে রাখার সহজ সূত্র

رَ = মোটা
رُ = মোটা
رِ = চিকন

আর رْ হলে:

আগে যবর/পেশ → মোটা
আগে জের → চিকন

উদাহরণ

رَبِّ → মোটা
رُسُل → মোটা
رِجَال → চিকন
قُرْآن → মোটা
فِرْعَوْن → চিকন
الْقَمَرْ → মোটা
خَبِيرْ → চিকন

তবে ر-এর পূর্ণ তাজবিদি অধ্যায়ে বিশেষ ব্যতিক্রম, ওয়াকফের সূক্ষ্ম নিয়ম এবং “দুইভাবে পড়ার” (جواز الوجهين) শব্দগুলো আলাদাভাবে শেখা প্রয়োজন।