আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

নূনে কুতনী

নূনে কুতনী (نون قطني): পরিচয়, নিয়ম ও কুরআনিক উদাহরণ

নূনে কুতনী (نُونُ قُطْنِيّ) তাজবিদ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তানভীনের পর হামজাতুল ওয়াসল (هَمْزَةُ الْوَصْلِ) এলে দুই শব্দকে মিলিয়ে পড়ার সময় তানভীনের নূন-ধ্বনি কীভাবে উচ্চারণ করতে হবে—এটি বুঝতে নূনে কুতনীর বিষয়টি জানা প্রয়োজন।

নূনে কুতনী কী?

নূনে কুতনী বলতে তানভীনের অন্তর্নিহিত নূন সাকিনের ধ্বনিকে কাসরা দিয়ে উচ্চারণ করাকে বোঝানো হয়, যখন তানভীনের পরের শব্দ হামজাতুল ওয়াসল দিয়ে শুরু হয় এবং দুই শব্দকে মিলিয়ে পড়া হয়।

সহজভাবে বলা যায়: তানভীনের পর হামজাতুল ওয়াসল এলে, ওয়াসল অবস্থায় তানভীনের নূনকে কাসরা দিয়ে পড়া হয়। এটি মূলত পরপর দুটি সাকিনের সমস্যা এড়িয়ে সহজে উচ্চারণ করার জন্য করা হয়।

তানভীনের মধ্যে নূনের ধ্বনি : তানভীন হলো— ـــٌـــ দুই পেশ ــــٍـــ দুই যের ــــًـــ দুই যবর

তানভীন উচ্চারণ করলে শেষের দিকে একটি نْ-এর ধ্বনি পাওয়া যায়।

উদাহরণ: كِتَابٌ  পড়ার সময় শেষের অংশে نْ -এর ধ্বনি থাকে।

হামজাতুল ওয়াসল কী?

হামজাতুল ওয়াসল (هَمْزَةُ الْوَصْلِ) এমন একটি হামজা, যা শব্দের শুরু থেকে পড়লে উচ্চারিত হয়; কিন্তু আগের শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে তার উচ্চারণ থাকে না। কুরআন শরীফে এটি সাধারণত আলিফের ওপর ছোট ٱ চিহ্নের মাধ্যমে বোঝানো হয়।

যেমন:    ٱلْحَمْدُ    ٱهْدِنَا      ٱسْتَغْفِرْ   

নূনে কুতনী কেন প্রয়োজন?

ধরুন:  أَحَدٌ ٱللَّهُ   প্রথম শব্দ أَحَدٌ-এর শেষে তানভীন আছে। তানভীনের মধ্যে নূন সাকিনের ধ্বনি রয়েছে। পরের শব্দ ٱللَّهُ হামজাতুল ওয়াসল দিয়ে শুরু হয়েছে। সংযোগ করে পড়লে হামজাতুল ওয়াসলের আলিফ আলাদাভাবে উচ্চারিত হয় না। ফলে তানভীনের নূনকে পরের অক্ষরের সঙ্গে সহজে মিলিয়ে পড়ার জন্য নূনকে জের দিয়ে পড়া হয়:  أَحَدُنِ ٱللَّهُ   অর্থাৎ এখানে তানভীনের নূন نِ হিসেবে উচ্চারিত হয়।

কুরআনের উদাহরণ 

১. أَحَدٌ ٱللَّهُ সূরা আল-ইখলাসে এসেছে:  قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ۝ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ  যদি দুই আয়াতকে ওয়াসল করে পড়া হয়, তাহলে:

أَحَدُنِ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ পড়ার ধরণ: আহাদুনিল্লাহুস্-সামাদ এখানে أَحَدٌ-এর তানভীনের নূন জের দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে।

২. عَادًا ٱلْأُولَىٰ  সূরা আন-নাজমে এসেছে: وَأَنَّهُۥٓ أَهْلَكَ عَادًا ٱلْأُولَىٰ  ওয়াসল করে পড়লে:  عَادَنِ ٱلْأُولَىٰ পড়ার ধরণ: আদানিল উলা এখানে عَادًا-এর তানভীনের নূন জের দিয়ে পড়া হয়।

৩. نُوحٌ ٱبْنَهُ    সূরা হূদে নূহ (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনার সময় এসেছে: وَنَادَىٰ نُوحٌ ٱبْنَهُۥ ওয়াসল করে পড়ার সময়: نُوحُنِ ٱبْنَهُ পড়ার ধরণ: নূহুনিবনাহু এখানে نُوحٌ-এর পর ٱبْنَهُ এসেছে। ٱبْنَهُ হামজাতুল ওয়াসল দিয়ে শুরু হওয়ায় তানভীনের নূন জের দিয়ে পড়া হয়।

নূনে কুতনী ও ওয়াকফ

নূনে কুতনী বোঝার ক্ষেত্রে ওয়াসল ও ওয়াকফের পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াসল করলে أَحَدٌ ٱللَّهُ   –  أَحَدُنِ ٱللَّهُ  ওয়াকফ করলে প্রথম শব্দে থেমে: أَحَدْ তারপর নতুন করে: ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ  পড়তে হবে। অর্থাৎ নূনে কুতনীর বিষয়টি দুই শব্দকে মিলিয়ে পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

হামজাতুল ওয়াসল ও হামজাতুল ক্বাত‘ এর পার্থক্য নূনে কুতনী বুঝতে এই পার্থক্য জানা খুব জরুরি।

হামজাতুল ওয়াসল চিহ্ন: ٱ   উদাহরণ:   ٱلْحَمْدُ    ٱلْأُولَىٰ      ٱبْنَهُ    তানভীনের পর এলে ওয়াসল অবস্থায় নূনে কুতনীর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

হামজাতুল ক্বাত‘ চিহ্ন: أ    /    إ   উদাহরণ:  أَحَدٌ      إِنَّ     أَكْرَمَ  হামজাতুল ক্বাত‘ সব অবস্থায় উচ্চারিত হয়। তাই এর কারণে নূনে কুতনীর নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না।

সহজে মনে রাখার সূত্র নূনে কুতনী মনে রাখার জন্য এই সূত্রটি মুখস্থ করুন: তানভীন + হামজাতুল ওয়াসল + ওয়াসল = নূনে কুতনী

আরও সহজভাবে: ٱ দেখুন → আগের শব্দে তানভীন দেখুন → ওয়াসল করুন → نِ উচ্চারণ করুন।

শিক্ষার্থীদের জন্য অনুশীলন নিচের উদাহরণগুলো ধীরে ধীরে পড়ুন:

أَحَدٌ ٱللَّهُ   –   أَحَدُنِ ٱللَّهُ .      نُوحٌ ٱبْنَهُ –  نُوحُنِ ٱبْنَهُ .   عَادًا ٱلْأُولَىٰ – عَادَنِ ٱلْأُولَىٰ.

প্রথমে তানভীন চিনুন, তারপর পরের শব্দের শুরুতে ٱ      আছে কি না দেখুন। এরপর দুই শব্দকে মিলিয়ে পড়ুন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা : নূনে কুতনীকে ইযহার, ইদগাম, ইখফা ও ইকলাবের মতো নূন সাকিন ও তানভীনের চারটি হুকুমের একটি মনে করা উচিত নয়। বরং এটি তানভীনের নূন-ধ্বনির উচ্চারণের একটি বিশেষ পরিস্থিতি, যা হামজাতুল ওয়াসল এবং ওয়াসল করে পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।