আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

নবীদের দাওয়াতি সংগ্রাম

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.أما بعد،

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি।

আজকের খুতবার বিষয়— “নবীদের দাওয়াতি সংগ্রাম”

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের সবার দাওয়াতের মূল কথা ছিল— এক আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাগুত ও শিরক থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ﴾

অর্থ: “আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।” (সূরা আন-নাহল: ৩৬)

আরও বলেন—

﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ﴾

অর্থ: “আপনার পূর্বে আমি যত রাসূল পাঠিয়েছি, তাদের প্রত্যেকের প্রতি এই ওহী করেছি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা শুধু আমারই ইবাদত কর।’” (সূরা আল-আম্বিয়া: ২৫)

নূহ (আ.)-এর দাওয়াত

নূহ (আ.) দীর্ঘ ৯৫০ বছর ধৈর্যের সঙ্গে তাঁর জাতিকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا﴾

অর্থ: “তিনি তাদের মধ্যে এক হাজার বছরের পঞ্চাশ বছর কম অবস্থান করেছিলেন।” (সূরা আল-আনকাবূত: ১৪)

ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত

ইবরাহিম (আ.) মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি নিজের পিতা, জাতি এবং অত্যাচারী শাসকের সামনেও সত্যের দাওয়াত দেন। এর কারণে তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেন।

আল্লাহ বলেন—

﴿قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ﴾

অর্থ: “আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৬৯)

মূসা (আ.)-এর দাওয়াত

মূসা (আ.) পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী শাসক ফিরআউনের কাছে গিয়ে তাওহীদের দাওয়াত দেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ﴾

অর্থ: “তোমরা তার সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বল, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।” (সূরা ত্ব-হা: ৪৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দাওয়াত

রাসূলুল্লাহ ﷺ তেইশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য, ত্যাগ ও কষ্টের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি নির্যাতন, বয়কট, অপমান এবং যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েও দাওয়াতি কাজ থেকে পিছপা হননি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ﴾

অর্থ: “হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা পৌঁছে দিন।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭)

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.


দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

নবীদের দাওয়াতি সংগ্রাম থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করি।

নবীদের দাওয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়

১. তাওহীদকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া।

২. ধৈর্য ও অবিচলতা।

আল্লাহ বলেন—

﴿فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ﴾

অর্থ: “আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, যেমন দৃঢ়সংকল্প রাসূলগণ ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।” (সূরা আল-আহকাফ: ৩৫)

৩. হিকমত ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে দাওয়াত।

﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ﴾

অর্থ: “আপনার প্রতিপালকের পথে মানুষকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।” (সূরা আন-নাহল: ১২৫)

৪. ইখলাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা।

৫. প্রতিকূল অবস্থায়ও সত্যের ওপর অটল থাকা।

আমাদের করণীয়

  • কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাওয়াতি কাজ করা।
  • পরিবার থেকে দাওয়াত শুরু করা।
  • নিজের চরিত্রকে ইসলামের আদর্শে গড়ে তোলা।
  • মানুষের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলা।
  • দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতা অবলম্বন করা।
  • আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে সত্যের পথে অবিচল থাকা।

দোয়া

اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الدُّعَاةِ إِلَى دِينِكَ، وَارْزُقْنَا الْإِخْلَاصَ وَالْحِكْمَةَ وَالصَّبْرَ، وَثَبِّتْنَا عَلَى الْحَقِّ حَتَّى نَلْقَاكَ.

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার দীনের দাওয়াতদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদেরকে আন্তরিকতা, প্রজ্ঞা ও ধৈর্য দান করুন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সত্যের ওপর অটল রাখুন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. فَاذْكُرُوا اللَّهَ يَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوهُ عَلَى نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ. وأقم الصلاة.

খতিবের জন্য উপসংহার

নবীদের জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। তারা তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের কল্যাণ চেয়েছেন এবং অসীম ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর দীন পৌঁছে দিয়েছেন। তাই আমাদেরও উচিত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন গড়ে তোলা, উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নবীদের আদর্শ অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।