আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد،

হে ঈমানদারগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি।

আজকের খুতবার বিষয়— “স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব”

বিবাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ এবং একটি পবিত্র অঙ্গীকার। আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনকে শান্তি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক দয়ার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً﴾

অর্থ: “তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হলো—তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা আর-রূম: ২১)

আরও বলেন—

﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾

অর্থ: “তোমরা তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ কর।”
(সূরা আন-নিসা: ১৯)

স্বামীর দায়িত্ব

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

ইসলাম স্বামীকে পরিবারের অভিভাবক করেছেন। তাই তার দায়িত্ব হলো—

  • স্ত্রীকে শরিয়তসম্মত ভরণ-পোষণ প্রদান করা।
  • ভালোবাসা, সম্মান ও সদাচরণের সঙ্গে জীবনযাপন করা।
  • স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা।
  • দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতার পরিবেশ তৈরি করা।
  • রাগের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।”
(জামে আত-তিরমিজি)

স্ত্রীর দায়িত্ব

স্ত্রীর দায়িত্ব হলো—

  • আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে থেকে স্বামীর বৈধ নির্দেশ মেনে চলা।
  • স্বামীর সম্পদ, সম্মান ও পরিবারের হেফাজত করা।
  • সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করা।
  • স্বামীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সহযোগিতা করা।
  • সংসারে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চেষ্টা করা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«الدُّنْيَا مَتَاعٌ، وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ»

অর্থ: “দুনিয়া ভোগের সামগ্রী; আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।”
(সহিহ মুসলিম)

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.


দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

প্রিয় মুসল্লিগণ!

সুখী পরিবার গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা এবং আল্লাহভীতির ওপর। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নন; বরং পরস্পরের সহযোগী।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ﴾

অর্থ: “তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)

এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের নিরাপত্তা, মর্যাদা, সৌন্দর্য ও গোপনীয়তার রক্ষক।

আমাদের করণীয়

  • পারিবারিক জীবনে কুরআন ও সুন্নাহকে অনুসরণ করা।
  • রাগের সময় সংযম অবলম্বন করা।
  • একে অপরের ভুল ক্ষমা করা।
  • পরামর্শের মাধ্যমে পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
  • সন্তানদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলা।
  • পরিবারে নিয়মিত সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণ চালু রাখা।

দোয়া

اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِ الْأَزْوَاجِ، وَاجْعَلْ بُيُوتَنَا مَمْلُوءَةً بِالْمَوَدَّةِ وَالرَّحْمَةِ، وَأَعِنَّا عَلَى أَدَاءِ حُقُوقِ بَعْضِنَا عَلَى بَعْضٍ.

অর্থ: হে আল্লাহ! স্বামী-স্ত্রীর অন্তরে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করুন, আমাদের ঘরগুলোকে ভালোবাসা ও রহমতে পরিপূর্ণ করুন এবং একে অপরের অধিকার আদায় করার তাওফীক দিন।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।” (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. وأقم الصلاة.