بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد:
সম্মানিত ঈমানদার ভাই ও বোনেরা!
আমি আপনাদের এবং নিজেকে সর্বপ্রথম আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। আজকের আলোচনার বিষয় “তাযকিয়াতুন নফস” বা আত্মশুদ্ধি।
বর্তমান যুগে মানুষ বাহ্যিক উন্নতিতে অনেক এগিয়ে গেলেও আত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। গুনাহ, হিংসা, অহংকার, রিয়া, হিংস্রতা, অশ্লীলতা ও দুনিয়ার মোহ মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দিয়েছে। অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো—প্রথমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা, তারপর আমলকে সুন্দর করা।
“তাযকিয়া” শব্দের অর্থ হলো পবিত্র করা, পরিশুদ্ধ করা এবং উন্নত করা। আর “নফস” বলতে মানুষের অন্তর, প্রবৃত্তি ও আত্মাকে বোঝানো হয়।
অর্থাৎ তাযকিয়াতুন নফস হলো—মানুষের অন্তরকে শিরক, রিয়া, অহংকার, হিংসা, লোভ, ক্রোধ ও সকল পাপ থেকে মুক্ত করে আল্লাহভীতি, ইখলাস, ধৈর্য, বিনয় ও উত্তম চরিত্র দ্বারা অলংকৃত করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا
উচ্চারণ: Qad aflaḥa man zakkāhā, wa qad khāba man dassāhā.
অর্থ: “নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।” — কুরআন (৯–১০)
আরও বলেন—
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
অর্থঃ “সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকার করবে না; উপকার করবে শুধু সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।” — কুরআন (৮৮–৮৯)
আল্লাহ বলেন—
يُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ
অর্থঃ “তিনি তাদের আত্মশুদ্ধি করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।” — কুরআন (২)
এ থেকে বোঝা যায়, আত্মশুদ্ধি নবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً، إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
অর্থঃ “জেনে রাখো! শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে। তা ভালো হলে পুরো শরীর ভালো হয়, আর তা নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়। জেনে রাখো, সেটি হলো হৃদয়।”
— সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিম
আরেকটি দোয়ায় রাসূল ﷺ বলতেন—
اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান করুন এবং একে পবিত্র করুন। আপনিই সর্বোত্তম পবিত্রকারী।”
— সহীহ মুসলিম
এসব রোগ মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে এবং আমলকে নষ্ট করে দেয়।
সব আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে।
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বুঝে পড়া অন্তরকে জীবিত রাখে।
সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।
سُبْحَانَ اللَّهِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
এই জিকিরগুলো অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে।
গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
ভালো মানুষের সঙ্গ ঈমান বাড়ায়, খারাপ সঙ্গ ঈমান কমায়।
মৃত্যুর স্মরণ দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আখিরাতমুখী করে।
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলতেন—
“حاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا”
অর্থঃ “তোমরা নিজেদের হিসাব নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই।”
এ শিক্ষা আমাদের প্রতিদিন আত্মসমালোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রিয় মুসল্লিগণ!
আসুন আমরা আজ থেকেই—
মনে রাখবেন, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের সৌন্দর্য আল্লাহর কাছে অধিক মূল্যবান।
اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الْكَذِبِ، وَأَعْيُنَنَا مِنَ الْخِيَانَةِ، وَزَكِّ نُفُوسَنَا، وَاغْفِرْ لَنَا وَلِوَالِدِينَا وَلِلْمُؤْمِنِينَ أَجْمَعِينَ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.