
إِنَّ الْحَمْدَ لِلّٰهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللّٰهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أَمَّا بَعْدُ.
সম্মানিত উপস্থিত ভাই ও বোনেরা,
আজকের আলোচনার বিষয় “তাকওয়া অর্জনের উপায়”। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো তাকওয়া।
তাকওয়া শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর ভয়, আল্লাহর প্রতি গভীর সচেতনতা এবং এমন জীবনযাপন করা, যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
হযরত উমর (রাঃ) উবাই ইবন কা‘ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তাকওয়া কী?” তিনি বললেন, “আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত পথে চলেছেন?” উমর (রাঃ) বললেন, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তখন আপনি কী করেছিলেন?” উমর (রাঃ) বললেন, “আমি সতর্কতার সাথে চলেছি যাতে কাঁটা না লাগে।” উবাই (রাঃ) বললেন, “এটাই তাকওয়া।”
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর।” (সূরা আলে ইমরান: ১০২)
আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা বা পদ-পদবি নয়; বরং তাকওয়া।
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ .
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি সে, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)
কুরআন হলো মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।
هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত, অর্থ অধ্যয়ন এবং জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।
যে ব্যক্তি সালাতকে গুরুত্ব দেয়, তার অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ।
একদিন আমাদের সবাইকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। এই অনুভূতি মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে।
যিকির অন্তরকে জীবিত রাখে।
রাসূল ﷺ দোয়া করতেন:
اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا .
“হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান করুন এবং তা পবিত্র করুন।”
মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। তাই নেককার ও দ্বীনদার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা জরুরি।
তাকওয়া শুধু নেক আমল করার নাম নয়; বরং গুনাহ বর্জনের নামও।
চোখের গুনাহ, জিহ্বার গুনাহ, মিথ্যা, গীবত, হিংসা, অহংকার—এসব থেকে বাঁচতে হবে।
প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে:
আজ আমি কী ভালো কাজ করেছি?
কোনো গুনাহ করেছি কি?
আল্লাহ আমার প্রতি সন্তুষ্ট কি না?
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا.
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।”
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ .
“এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
তাকওয়াবান ব্যক্তি সব অবস্থায় আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকে।
আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
প্রিয় ভাইয়েরা,
আমরা যারা দ্বীনের দাওয়াত, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণের কাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য তাকওয়া সবচেয়ে বড় পুঁজি। জ্ঞান, দক্ষতা, নেতৃত্ব বা সাংগঠনিক শক্তি তখনই কল্যাণকর হবে যখন তা তাকওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
আসুন, আমরা নিজেদের পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে তাকওয়ার পরিবেশ গড়ে তুলি। আল্লাহভীতি, ইখলাস ও জবাবদিহিতার চেতনা নিয়ে কাজ করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَّقِينَ، وَمِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلِوَالِدِينَا وَلِلْمُؤْمِنِينَ أَجْمَعِينَ.
হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের, আমাদের পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।
آمين يا رب العالمين.
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله ﷺ
সম্মানিত সভাপতি, দায়িত্বশীল ভাই এবং প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ—
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমানের নেয়ামত দিয়েছেন এবং তাঁর দ্বীনের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় অনুগ্রহ ও দায়িত্ব।
আমরা সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করি, মানুষের কাছে দ্বীনের কথা পৌঁছানোর চেষ্টা করি এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু এসব কাজের সফলতার জন্য শুধু সাংগঠনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়। একজন কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক, তাকওয়া, ইখলাস ও ইহসান।
তাই আজকের প্রশিক্ষণের বিষয়—“তাকওয়া ও ইহসান”।
১. তাকওয়া কী?
তাকওয়া অর্থ—আল্লাহকে ভয় ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ.
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো।” —সূরা আলে ইমরান: ১০২
তাকওয়া শুধু মসজিদে বা নামাজের সময়ের বিষয় নয়।
ব্যবসায় তাকওয়া, চাকরিতে তাকওয়া, পরিবারে তাকওয়া, কথাবার্তায় তাকওয়া, অর্থনৈতিক লেনদেনে তাকওয়া এবং সংগঠনের দায়িত্ব পালনে তাকওয়া—সব ক্ষেত্রেই তাকওয়া প্রয়োজন।
২. তাকওয়ার প্রকৃত পরিচয়
মানুষের সামনে ভালো থাকা সহজ। কিন্তু যখন কেউ দেখছে না, তখনও আল্লাহকে ভয় করে অন্যায় থেকে বিরত থাকা—এটাই তাকওয়ার প্রকৃত পরিচয়।
কেউ দেখছে না, তবুও হারাম থেকে বেঁচে থাকা।
কেউ হিসাব চাইবে না, তবুও আমানত রক্ষা করা।
কেউ দায়িত্বের হিসাব নেবে না, তবুও দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা।
কেউ ভুল ধরবে না, তবুও নিজের ভুল সংশোধন করা।
এসবই তাকওয়ার বাস্তব প্রকাশ।
তাকওয়ার মূল চেতনা হলো—“মানুষ আমাকে না দেখলেও আল্লাহ আমাকে দেখছেন।”
৩. ইহসান কী?
ইহসান অর্থ হলো—কোনো কাজ সুন্দরভাবে, উত্তমভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে করা।
হাদিসে জিবরাইলের ঘটনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.
“তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর তুমি তাঁকে দেখতে না পেলেও তিনি তোমাকে দেখছেন।” অর্থাৎ—
আল্লাহ আমাকে দেখছেন—এই অনুভূতি নিয়ে প্রতিটি কাজ করাই ইহসানের চেতনা।
৪. তাকওয়া ও ইহসানের সম্পর্ক
তাকওয়া আমাদের অন্যায় থেকে দূরে রাখে।
ইহসান আমাদের ভালো কাজকে সুন্দর ও উৎকৃষ্ট করতে শেখায়।
তাকওয়া বলে—
“এ কাজটি করো না, আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন।”
ইহসান বলে—
“ভালো কাজটি আরও সুন্দরভাবে করো, কারণ আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।”
তাই একজন কর্মীর মধ্যে তাকওয়া ও ইহসান দুটিই থাকা প্রয়োজন।
৫. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর জন্য তাকওয়া
আমরা যারা ইসলামী আন্দোলনের কাজে যুক্ত, আমাদের জন্য তাকওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ মানুষ শুধু আমাদের বক্তব্য শুনবে না; আমাদের চরিত্রও দেখবে।
আমাদের আচরণ, কথাবার্তা, লেনদেন, দায়িত্ববোধ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু থেকেই মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
তাই একজন কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন ও সাংগঠনিক জীবন—দুটিই হতে হবে আল্লাহভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৬. দায়িত্ব পালনে ইহসান
সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্ব একটি আমানত।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا .
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।” —সূরা আন-নিসা: ৫৮
তাই দায়িত্ব পেলেই শুধু দায়িত্ব শেষ করা যথেষ্ট নয়।
দায়িত্বটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে।
সভা থাকলে প্রস্তুতি নিয়ে আসব।
দাওয়াতের দায়িত্ব থাকলে আন্তরিকভাবে করব।
কোনো ভাইয়ের খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব থাকলে আন্তরিকভাবে তার অবস্থা জানব।
যে কাজই দেওয়া হোক—অবহেলা নয়, ইহসানের সঙ্গে করব।
৭. ইখলাস ও আত্মপ্রদর্শন
তাকওয়া ও ইহসানের সঙ্গে ইখলাসের সম্পর্ক রয়েছে।
আমরা নিজেদের প্রশ্ন করতে পারি—
আমি কেন কাজ করছি?
মানুষ আমাকে ভালো বলবে বলে?
দায়িত্বশীল আমাকে প্রশংসা করবেন বলে?
আমার নাম সামনে আসবে বলে?
নাকি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন—এই উদ্দেশ্যে?
একজন মুমিনের কাজের আসল মূল্য নির্ভর করে তার নিয়তের ওপর।
তাই কাজ করার পাশাপাশি নিয়তও সংশোধন করতে হবে।
৮. তাকওয়া অর্জনের কয়েকটি উপায়
১. কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি
নিয়মিত কুরআন পড়া, বোঝা ও জীবনে প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে।
২. আল্লাহর জিকির
আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করলে অন্তর জীবন্ত থাকে।
৩. আত্মসমালোচনা
প্রতিদিন নিজের আমলের হিসাব নিতে হবে—
আজ কী ভালো করেছি?
কী ভুল করেছি?
কোন গুনাহ থেকে আমাকে বাঁচতে হবে?
৪. গোপন আমল
এমন কিছু নেক আমল থাকা উচিত যা শুধু আল্লাহ জানেন।
৫. আখিরাতের জবাবদিহি স্মরণ
মৃত্যু ও আখিরাতের হিসাব স্মরণ করলে দুনিয়ার অহংকার কমে এবং তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।
৯. প্রশিক্ষণ হিসেবে আত্মমূল্যায়ন
আজ আমরা নিজেদের কাছে চারটি প্রশ্ন করতে পারি—
১. আমি কি একাকী অবস্থায়ও আল্লাহকে ভয় করি?
২. আমার গোপন জীবন কি প্রকাশ্য জীবনের মতোই পরিচ্ছন্ন?
৩. আমি কি দায়িত্বকে আমানত মনে করে পালন করি?
৪. আমার কাজ কি মানুষের প্রশংসার জন্য, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য?
প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্য কাউকে দিতে হবে না। নিজের অন্তরের কাছে সৎভাবে উত্তর দিতে হবে।
উপসংহার
প্রিয় ভাইয়েরা,
ইসলামী আন্দোলনের জন্য আমাদের দক্ষতা প্রয়োজন, সংগঠনিক যোগ্যতা প্রয়োজন, পরিশ্রম প্রয়োজন। কিন্তু এসবের ভিত্তি হতে হবে তাকওয়া ও ইহসান।
তাকওয়া আমাদের গুনাহ থেকে বাঁচাবে।
ইহসান আমাদের কাজকে সুন্দর করবে।
আর ইখলাস আমাদের কাজকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাবে।
তাই আমাদের লক্ষ্য হোক—
মানুষের সামনে ভালো কর্মী হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ভালো বান্দা হওয়া।
আমরা যেন এমন কর্মী হতে পারি—
যিনি একাকীত্বেও আল্লাহকে ভয় করেন,
দায়িত্বে আমানতদার থাকেন,
কাজে ইহসান করেন,
সম্পর্কে উত্তম আচরণ করেন
এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে প্রকৃত তাকওয়া সৃষ্টি করুন, প্রতিটি কাজে ইহসান দান করুন, আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করুন এবং তাঁর দ্বীনের জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।
آمِين يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Manage your cookie preferences below:
Essential cookies enable basic functions and are necessary for the proper function of the website.
These cookies are needed for adding comments on this website.
These cookies are used for managing login functionality on this website.
Statistics cookies collect information anonymously. This information helps us understand how visitors use our website.
Google Analytics is a powerful tool that tracks and analyzes website traffic for informed marketing decisions.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
Marketing cookies are used to follow visitors to websites. The intention is to show ads that are relevant and engaging to the individual user.
Google Maps is a web mapping service providing satellite imagery, real-time navigation, and location-based information.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
You can find more information in our Cookie Policy and .