আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত বেশি। কুরআন ও সহিহ হাদিসে হালাল রিজিক অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং হারাম উপার্জন থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

أما بعد،

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে আল্লাহভীতির (তাকওয়া) উপদেশ দিচ্ছি।

আজকের খুতবার বিষয়— “হালাল উপার্জনের গুরুত্ব”

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পবিত্রতা ও বৈধতার শিক্ষা দিয়েছে। ইবাদত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হালাল উপার্জনও আল্লাহর নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হালাল উপার্জন ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ, আর হারাম উপার্জন আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ﴾

অর্থ: “হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র আছে, তা থেকে আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৬৮)

আরও বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ﴾

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দান করেছি, তা থেকে আহার কর।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৭২)

হালাল উপার্জনের মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا»

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।”
(সহিহ মুসলিম)

আরও বলেছেন—

«مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ»

অর্থ: “মানুষ নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো খায়নি।”
(সহিহ আল-বুখারি)

হারাম উপার্জনের ভয়াবহতা

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

হারাম উপার্জন মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কেই ধ্বংস করে। ঘুষ, সুদ, প্রতারণা, জালিয়াতি, ওজনে কম দেওয়া, আত্মসাৎ, চুরি এবং মানুষের হক নষ্ট করা—এসব হারাম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।

রাসূল ﷺ এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যে দীর্ঘ সফরে, অগোছালো অবস্থায় হাত তুলে দোয়া করে; কিন্তু—

«وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ؟»

অর্থ: “তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত-পালিত। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?”
(সহিহ মুসলিম)

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.


দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আজকের যুগে হালাল উপার্জন নিশ্চিত করতে আমাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসা, চাকরি, অনলাইন লেনদেন, আমানত, বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই সততা ও শরিয়তের বিধান মেনে চলতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ ۝ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ۝ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ﴾

অর্থ: “ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে বা ওজনে কম দেয়; যারা মানুষের কাছ থেকে নিলে পূর্ণ মাত্রায় নেয়, আর যখন মানুষকে দেয় তখন কম দেয়।”
(সূরা আল-মুতাফফিফীন: ১–৩)

হালাল উপার্জনের উপকারিতা

আমাদের করণীয়

দোয়া

اللَّهُمَّ اكْفِنَا بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنَا بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ، وَبَارِكْ لَنَا فِي أَرْزَاقِنَا، وَاجْعَلْهَا عَوْنًا لَنَا عَلَى طَاعَتِكَ.

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালালের মাধ্যমে আমাদের হারাম থেকে রক্ষা করুন। আপনার অনুগ্রহে আমাদেরকে অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত রাখুন। আমাদের রিজিকে বরকত দান করুন এবং তা আপনার আনুগত্যের কাজে ব্যয় করার তাওফীক দিন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

فَاذْكُرُوا اللَّهَ يَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوهُ عَلَى نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.

وأقم الصلاة.

খতিবের জন্য উপসংহার

হালাল উপার্জন একজন মুসলিমের ঈমান, ইবাদত ও চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অল্প হলেও হালাল উপার্জন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, আর বিপুল হারাম সম্পদ দুনিয়া ও আখিরাতে ধ্বংসের কারণ। তাই আসুন, আমরা হালাল রিজিক অর্জনে সচেষ্ট হই, হারাম উপার্জনের সব পথ থেকে দূরে থাকি এবং সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহভীতির সঙ্গে জীবন পরিচালনা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন এবং হারাম থেকে হেফাজত করুন। আমীন।