بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর।
সম্মানিত উপস্থিতি,
আজকের আলোচনার বিষয় “সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা”।
সন্তান আল্লাহ তাআলার একটি মহান নিয়ামত। এই নিয়ামতের যথাযথ হক আদায় করা প্রত্যেক পিতা-মাতার জন্য ফরজ দায়িত্ব। আজ আমরা সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে ব্যস্ত, কিন্তু অনেক সময় তাদের ঈমান, আকীদা, চরিত্র ও ইসলামী আদর্শ গঠনের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ি। অথচ একজন সন্তানের প্রকৃত সফলতা কেবল দুনিয়ার ডিগ্রিতে নয়; বরং ঈমান ও তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত জীবনেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (সূরা আত-তাহরীম: ৬)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সন্তানকে শুধু খাওয়ানো-পড়ানো নয়; বরং ঈমান ও ইসলামের শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার অপরিহার্য দায়িত্ব।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim)
অর্থাৎ সন্তানকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়।
সন্তানকে প্রথমেই শেখাতে হবে—
আল্লাহ একজন।
তিনি সবকিছু দেখেন।
তিনি সবকিছু শোনেন।
কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে।
আল্লাহ বলেন—
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“হে আমার প্রিয় সন্তান! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম।” (সূরা লুকমান: ১৩)
লুকমান (আ.) তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন—
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ
“হে আমার সন্তান! সালাত প্রতিষ্ঠা কর।” (সূরা লুকমান: ১৭)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ
“তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের আদেশ দাও।” (Sunan Abi Dawud)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
مَا مِنْ شَيْءٍ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ
“কিয়ামতের দিন উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছু হবে না।” (Jami’ al-Tirmidhi)
সন্তানকে শেখাতে হবে—
সত্য কথা বলা
আমানত রক্ষা
মিথ্যা থেকে দূরে থাকা
বড়দের সম্মান
ছোটদের স্নেহ
প্রতিবেশীর হক আদায়
রাসূল ﷺ বলেছেন—
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” (Sahih al-Bukhari)
প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট সন্তানদের কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ শেখানোর চেষ্টা করা উচিত।
সন্তান পিতা-মাতাকে দেখে শেখে।
আপনি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, সন্তানও নামাজ ভালোবাসবে।
আপনি যদি কুরআন তিলাওয়াত করেন, সন্তানও কুরআনের প্রতি আকৃষ্ট হবে।
আপনি যদি মিথ্যা বলেন, সন্তানও মিথ্যা শিখবে।
একজন আলেমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—
“সন্তানের শিক্ষা কখন থেকে শুরু করব?”
তিনি বললেন—
“আপনার সন্তানের জন্মের বিশ বছর আগে—অর্থাৎ আপনার নিজের চরিত্র গঠন থেকেই।”
এ কথার অর্থ হলো, সন্তানকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে পিতা-মাতার আমল ও আচরণ।
বর্তমানে সন্তানদের সবচেয়ে বড় শত্রু—
মোবাইলের অপব্যবহার
অশ্লীল বিনোদন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি
দ্বীনি পরিবেশের অভাব
তাই পরিবারে ইসলামী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
১. প্রতিদিন পরিবারে কুরআন তিলাওয়াত।
২. জামাতে নামাজের অভ্যাস।
৩. ইসলামী বই পড়া।
৪. নবীদের জীবনী শোনানো।
৫. সন্তানদের সাথে সময় কাটানো।
৬. ভালো বন্ধু নির্বাচন।
৭. ইসলামী পরিবেশে বড় করে তোলা।
সম্মানিত উপস্থিতি,
আমরা যদি সন্তানদের কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করি কিন্তু ঈমানদার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমাদের দায়িত্ব পূর্ণ হবে না। দুনিয়ার সফলতার পাশাপাশি আখিরাতের সফলতাই একজন সন্তানের প্রকৃত সফলতা।
আসুন, আমরা নিজেদের পরিবারকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করি এবং সন্তানদের কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে গড়ে তুলি।
اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوْلَادَنَا مِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ، وَاجْعَلْهُمْ قُرَّةَ أَعْيُنٍ لَنَا، وَأَصْلِحْ دِينَهُمْ وَدُنْيَاهُمْ وَآخِرَتَهُمْ، وَاحْفَظْهُمْ مِنْ كُلِّ سُوءٍ.
হে আল্লাহ! আমাদের সন্তানদের কুরআনের অনুসারী বানিয়ে দিন। তাদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন। তাদের দীন, দুনিয়া ও আখিরাতকে কল্যাণময় করুন এবং সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.