إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد:
সম্মানিত উপস্থিত ভাই ও বোনেরা,
আল্লাহ তাআলার অশেষ শুকরিয়া যে তিনি আমাদেরকে ইসলামের জন্য কাজ করার তাওফীক দান করেছেন। আজকের আলোচনার বিষয় “সংগঠনের প্রতি আনুগত্য”।
একজন মুসলিমের জীবনে সংগঠন কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; বরং দ্বীনের কাজকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এই আনুগত্য হতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ﴾
অর্থ:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদের আনুগত্য কর।”
(সূরা আন-নিসা: ৫৯)
এই আয়াত থেকে আমরা তিনটি বিষয় শিখি—
১. আল্লাহর আনুগত্য সর্বাগ্রে।
২. রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য বাধ্যতামূলক।
৩. নেতৃত্বের আনুগত্য আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের অধীন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ يَدَ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
অর্থ:
“তোমরা জামাআতকে আঁকড়ে ধরো। নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য জামাআতের সঙ্গে থাকে।”
(তিরমিযী)
আরেক হাদিসে এসেছে—
مَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي
অর্থ:
“যে আমার নিযুক্ত আমীরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল; আর যে তার অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।”
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
সংগঠনের আনুগত্যের মাধ্যমে—
আল্লাহ বলেন—
﴿وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا﴾
অর্থ:
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না।”
(সূরা আলে ইমরান: ১০৩)
আল্লাহ বলেন—
﴿وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ﴾
অর্থ:
“তাদের কার্যাবলি পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।”
(সূরা আশ-শূরা: ৩৮)
অর্থাৎ সংগঠনের সিদ্ধান্ত হবে শূরার মাধ্যমে। শূরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ব্যক্তিগত মত ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ইসলামী আদব।
ইসলামে অন্ধ আনুগত্য নেই।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
অর্থ:
“স্রষ্টার অবাধ্যতার কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।”
(মুসনাদ আহমাদ)
আরও বলেছেন—
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থ:
“আনুগত্য কেবল ন্যায়সঙ্গত কাজে।”
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
অতএব সংগঠন যদি কখনো কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই নির্দেশ মানা বৈধ নয়। তবে ভিন্নমতও প্রকাশ করতে হবে শালীনতা ও শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে।
গাযওয়ায়ে উহুদে রাসূল ﷺ তীরন্দাজদের পাহাড় ছেড়ে না যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু সাহাবী যুদ্ধ শেষ হয়েছে মনে করে অবস্থান ত্যাগ করেন। এর ফলে মুসলিম বাহিনী বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এই ঘটনা আমাদের শেখায়—
যারা ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করি, আমাদের উচিত—
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
সংগঠনের আনুগত্য কোনো ব্যক্তিপূজা নয়; এটি শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দ্বীনের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার একটি ইসলামী নীতি। আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর আনুগত্যের অধীন থেকে শূরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত মেনে চললে সংগঠন শক্তিশালী হয়, সমাজ উপকৃত হয় এবং আল্লাহর সাহায্য লাভের আশা করা যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার, বৈধ নেতৃত্বের আনুগত্য করার এবং দ্বীনের খেদমতে আন্তরিক থাকার তাওফীক দান করুন।
آمين يا رب العالمين
اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلَامِ، وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الْمُخْلِصِينَ.
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরগুলোতে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি করুন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করুন, আমাদের শান্তির পথ দেখান এবং আমাদেরকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
সম্পাদকীয় নোট: এই আলোচনা ইসলামের সাধারণ নীতিমালার আলোকে সংগঠনের প্রতি বৈধ আনুগত্য, শূরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং কুরআন-সুন্নাহর সীমার মধ্যে নেতৃত্ব অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনকে শরয়ীভাবে একমাত্র বা বিশেষ মর্যাদা প্রদান করার উদ্দেশ্যে রচিত নয়।