بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد،
সম্মানিত উপস্থিত মুসল্লীবৃন্দ, প্রিয় ঈমানদার ভাই ও যুব সমাজ!
আজকের আলোচনার বিষয় “যুবকদের দায়িত্ব”।
যৌবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে কর্মক্ষম এবং সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময়কে সঠিক পথে ব্যবহার করতে পারলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়। আর অপব্যবহার করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই ধ্বংস হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً
“তিনি দুর্বলতার পরে শক্তি দান করেছেন।”
(সূরা আর-রূম: ৫৪)
এই শক্তির সময়ই হলো যৌবন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ… وَشَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ
“পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটির আগে মূল্যবান মনে করো… বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবনকে।”
(হাকিম)
আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ যে সাত শ্রেণির মানুষকে আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, তাদের একজন—
وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ
“সে যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বড় হয়েছে।”
(সহিহ বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহ বলেন—
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।”
(সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬)
সুতরাং একজন যুবকের প্রথম পরিচয় হবে—
রাসূল ﷺ বলেছেন—
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“প্রত্যেক মুসলিমের উপর ইলম অর্জন করা ফরজ।”
(ইবনে মাজাহ)
আজ অনেক যুবক ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে কাটায়, কিন্তু কুরআনের একটি সূরাও ঠিকভাবে পড়তে পারে না।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ
“আমি উত্তম চরিত্র পূর্ণতা দানের জন্য প্রেরিত হয়েছি।”
(মুসনাদ আহমদ)
একজন মুসলিম যুবক হবে—
আল্লাহ বলেন—
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর।”
(সূরা আল-বাকারা: ৮৩)
আজ বৃদ্ধাশ্রম বাড়ছে কারণ অনেক যুবক বাবা-মায়ের মূল্য বুঝছে না।
আল্লাহ বলেন—
وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ
“তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকুক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে।”
(সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
যুবকদের উচিত—
রাসূল ﷺ বলেছেন—
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ
“দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর।”
(সহিহ বুখারী)
মোবাইল, গেমস, ফেসবুক, টিকটক—এসব যদি সময় নষ্টের কারণ হয় তবে তা বড় ক্ষতি।
মাত্র অল্প বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূল ﷺ-এর জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে তাঁর বিছানায় শয়ন করেন।
মদিনার প্রথম দাঈ। তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশাল সেনাবাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত হন।
যৌবনের উত্তেজনায়ও ব্যভিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।
এক যুবক রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইল।
রাসূল ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন—
“তুমি কি এটি তোমার মায়ের জন্য পছন্দ করবে?”
সে বলল—না।
তিনি বললেন—
“মানুষও তাদের মা, বোন ও কন্যার জন্য এটি পছন্দ করে না।”
অতঃপর রাসূল ﷺ তার জন্য দোয়া করলেন। সেই যুবক আর কখনো এ পাপের দিকে ফিরে যায়নি।
(মুসনাদ আহমদ)
এটাই ছিল নববী পদ্ধতিতে যুবকদের সংশোধন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ… وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ
“কিয়ামতের দিন বান্দার পা সরবে না… তার যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে—এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(তিরমিজি)
প্রিয় যুব সমাজ!
আজ তোমরা ইসলামের সৈনিক। আগামী দিনের ইমাম, আলেম, দাঈ, শিক্ষক, নেতা এবং জাতির অভিভাবক তোমরাই। তোমাদের ঈমান, আমল, চরিত্র ও দায়িত্ববোধের উপর আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই যৌবনকে গুনাহে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করো।
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ شَبَابَ الْمُسْلِمِينَ، وَاهْدِهِمْ إِلَى الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ، وَاجْعَلْهُمْ مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ، وَاحْفَظْهُمْ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ.
অর্থ: হে আল্লাহ! মুসলিম যুবকদের সংশোধন করুন, তাদের সরল পথে পরিচালিত করুন, তাদেরকে আপনার নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সব ফিতনা থেকে হেফাজত করুন।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.