আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

বিদআতের ক্ষতিকর প্রভাব

বিদআতের ক্ষতিকর প্রভাব: বিদআত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিদআতের পরিচয়, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং একজন মুসলিমের করণীয় সম্পর্কে এই খুতবায় আলোচনা করা হয়েছে।

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد،

হে ঈমানদারগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾

আজকের আলোচনার বিষয়— বিদআতের ক্ষতিকর প্রভাব।

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ দ্বীন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—

﴿الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا﴾

অর্থ: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)

যখন দ্বীন পূর্ণাঙ্গ, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ অনুমোদন দেননি—এমন নতুন ইবাদত বা ধর্মীয় রীতি দ্বীনের অংশ হিসেবে চালু করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রাসূল ﷺ তাঁর খুতবায় প্রায়ই বলতেন—

«فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»

অর্থ: “সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ ﷺ-এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনে নবউদ্ভাবিত বিষয়; প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা।”
(সহিহ মুসলিম)

রাসূল ﷺ আরও বলেছেন—

«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»

অর্থ: “যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুনভাবে চালু করবে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
(সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

বিদআতের ক্ষতিকর প্রভাব

১. আল্লাহর নিকট আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

২. সুন্নাহর গুরুত্ব কমিয়ে দেয় এবং মানুষকে রাসূল ﷺ-এর আদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৩. মুসলিম সমাজে বিভেদ ও মতভেদ সৃষ্টি করে।

৪. ধর্মে এমন বিষয় যোগ হয়, যার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

৫. পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইসলামের পরিবর্তে বিকৃত ধারণা পৌঁছে যেতে পারে।

প্রিয় মুসল্লিগণ!

আমাদের কর্তব্য হলো— কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা। কোনো আমল করার আগে তার শরয়ি দলিল আছে কি না, তা যাচাই করা।

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.

দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

বিদআত থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হলো—

  • কুরআন নিয়মিত অধ্যয়ন করা।
  • সহিহ সুন্নাহ শেখা ও অনুসরণ করা।
  • দ্বীনি বিষয়ে বিশ্বস্ত ও জ্ঞানী আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করা।
  • কোনো নতুন ধর্মীয় আমল প্রচলিত থাকলে তার দলিল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
  • মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দ্বীনের শিক্ষা প্রচার করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ﴾

অর্থ: “এটাই আমার সরল পথ। তোমরা এ পথই অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না।”
(সূরা আল-আনআম: ১৫৩)

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর ওপর অবিচল রাখুন। দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং এমন সব কাজ থেকে আমাদের রক্ষা করুন যা আপনার সন্তুষ্টির পরিপন্থী।

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

وأقم الصلاة.