আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার উপায়

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد،

সম্মানিত উপস্থিত ঈমানদার ভাই ও বোনেরা,

আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমরা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব— “নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার উপায়”

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি নৈতিকতার অবক্ষয়ও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মিথ্যা, প্রতারণা, ঘুষ, সুদ, অশ্লীলতা, পর্নোগ্রাফি, মাদকাসক্তি, ব্যভিচার, পরিবার ভাঙন এবং সামাজিক অবক্ষয় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো নিজেকে এবং পরিবারকে এসব ফিতনা থেকে রক্ষা করা।

কুরআনের নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লাহা ওয়া কুনু মা’আস-সাদিকীন।

অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।”

— সূরা আত-তাওবা: ১১৯

আরও বলেন—

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়কে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।”

— সূরা আন-নাহল: ৯০

রাসূল ﷺ-এর শিক্ষা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ

অর্থ: “আমি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।”

আরও বলেছেন—

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

অর্থ: “যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ

১. আল্লাহভীতি (তাকওয়া) কমে যাওয়া।
২. কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া।
৩. অশ্লীল মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার।
৪. অসৎ বন্ধুদের সঙ্গ।
৫. পরিবারে ইসলামী শিক্ষার অভাব।

নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার উপায়

১. তাকওয়া অর্জন

আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ করুন। মনে রাখুন— তিনি সবকিছু দেখছেন।

২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা

আল্লাহ বলেন—

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।”

— সূরা আল-আনকাবূত: ৪৫

৩. কুরআন তিলাওয়াত ও বুঝে পড়া

প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং তার শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করুন।

৪. সৎ সঙ্গ গ্রহণ

সৎ বন্ধু ঈমান বৃদ্ধি করে, অসৎ বন্ধু ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

অর্থ: “মানুষ তার বন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে।”

৫. দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত

আল্লাহ বলেন—

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ

অর্থ: “মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।”

— সূরা আন-নূর: ৩০

৬. পরিবারে ইসলামী পরিবেশ গড়ে তোলা

বাড়িতে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, সালাত এবং ইসলামী আলোচনা চালু করুন।

৭. তওবা ও ইস্তিগফার

ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

শিক্ষণীয় ঘটনা

এক যুবক রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইল। সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। কিন্তু রাসূল ﷺ তাকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি এটা তোমার মা, বোন বা কন্যার জন্য পছন্দ করবে?” যুবক বলল, “কখনোই না।” তখন রাসূল ﷺ বুঝিয়ে দিলেন, অন্যরাও তাদের পরিবারের জন্য তা পছন্দ করে না। এরপর তিনি যুবকের জন্য দোয়া করলেন। সেই যুবক পরে আর কখনো এ ধরনের পাপের দিকে ফিরে যায়নি।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়— জ্ঞান, সহমর্মিতা ও উত্তম উপদেশ মানুষের চরিত্র পরিবর্তন করতে পারে।

আমাদের করণীয়

  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।

  • প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা।

  • সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া।

  • হারাম থেকে বেঁচে থাকা।

  • সত্যবাদী হওয়া।

  • ঘুষ, সুদ ও প্রতারণা বর্জন করা।

  • সামাজিক মাধ্যমে শালীনতা বজায় রাখা।

  • নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করা।

উপসংহার

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা,

নৈতিক অবক্ষয় একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসকারী ব্যাধি। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করলে আমরা দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারব। তাই আসুন, আমরা নিজেরা সৎ চরিত্র গড়ি এবং সমাজে নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিই।

দোয়া

اللَّهُمَّ اهْدِنَا لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ، لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنَّا سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنَّا سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ.

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন। উত্তম চরিত্রের পথ একমাত্র আপনিই দেখাতে পারেন। আর আমাদের থেকে মন্দ চরিত্র দূর করে দিন। মন্দ চরিত্র একমাত্র আপনিই দূর করতে পারেন।

وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.