আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

ধৈর্য ও সবরের শিক্ষা

প্রথম খুতবা

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد،

হে ঈমানদারগণ! আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ﴾

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর, প্রস্তুত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।”
(সূরা আলে ইমরান: ২০০)

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

আজকের আলোচনার বিষয়— ধৈর্য ও সবরের শিক্ষা।

সবর অর্থ হলো— আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিপদে ধৈর্য ধরা, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালনে দৃঢ় থাকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ﴾

অর্থ: “আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৫৫)

আরও বলেন—

﴿إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ﴾

অর্থ: “নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে বিনা হিসাবে।”
(সূরা আয-যুমার: ১০)

প্রিয় মুসল্লিগণ!

মানুষের জীবন পরীক্ষা ও কষ্টে পরিপূর্ণ। কখনো রোগ, কখনো দারিদ্র্য, কখনো পারিবারিক সমস্যা, কখনো প্রিয়জন হারানোর শোক— এসবের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করেন। এ সময় একজন মুমিনের পরিচয় হলো সবর করা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ»

অর্থ: “ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও বিস্তৃত কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।”
(সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

তিনি আরও বলেছেন—

«إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى»

অর্থ: “প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতের সময় ধৈর্য ধারণ করা।”
(সহিহ আল-বুখারি)

সবরের তিনটি ধরন

১. আল্লাহর আদেশ পালনে ধৈর্য।
২. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ধৈর্য।
৩. বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য।

নবী-রাসূলগণের জীবন সবরের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হযরত আইয়ূব (আ.) রোগে, হযরত ইয়াকুব (আ.) সন্তান বিচ্ছেদে, আর আমাদের প্রিয় নবী ﷺ নানা কষ্টে ধৈর্যের সর্বোচ্চ উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.

দ্বিতীয় খুতবা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

সম্মানিত মুসল্লিগণ!

ধৈর্যের ফল অত্যন্ত মধুর। ধৈর্যশীল ব্যক্তি আল্লাহর সাহায্য লাভ করে, মানুষের ভালোবাসা পায় এবং আখিরাতে জান্নাতের সুসংবাদ অর্জন করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ﴾

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

আজ আমাদের সমাজে অস্থিরতা, রাগ, হতাশা ও অধৈর্যের কারণে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের প্রয়োজন— নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, আল্লাহর জিকির এবং তাকওয়ার মাধ্যমে ধৈর্য অর্জন করা।

আসুন আমরা সংকল্প করি—

  • বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা করব।
  • রাগ নিয়ন্ত্রণ করব।
  • গুনাহ থেকে বেঁচে থাকব।
  • আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থাকব।

দোয়া

اللَّهُمَّ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ.

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পদক্ষেপ দৃঢ় করুন এবং সত্যের পথে আমাদের সাহায্য করুন।”

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. وأقم الصلاة.