الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
সম্মানিত উপস্থিতি, আজকের আলোচনার বিষয় “তাওহীদের শিক্ষা”। তাওহীদ ইসলামের মূল ভিত্তি এবং সকল নবী-রাসূলের দাওয়াতের কেন্দ্রবিন্দু। একজন মুসলমানের ঈমান, আমল ও আখিরাতের সফলতা তাওহীদের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তাওহীদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য।
তাওহীদ শব্দটি আরবি “وَحَّدَ” (ওয়াহহাদা) থেকে এসেছে, যার অর্থ এক করা বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
শরীয়তের পরিভাষায় তাওহীদ হলো— আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সত্তা, গুণাবলি, ইবাদত এবং ক্ষমতার ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
অর্থ: “আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।” সূরা আন-নাহল: ৩৬
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, সকল নবীর প্রধান দাওয়াত ছিল তাওহীদের দাওয়াত।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সহীহ মুসলিম
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: “যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যেত।” সূরা আল-আন‘আম: ৮৮ তাওহীদ ছাড়া কোনো আমল গ্রহণযোগ্য নয়।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলিমগণ তাওহীদকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করেছেন।
আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পরিচালনাকারী— এই বিশ্বাস রাখা।
আল্লাহ বলেন:
اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ
অর্থ: “আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা।” সূরা আয-যুমার: ৬২
ইবাদতের সব প্রকার আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا
অর্থ: “তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।” সূরা আন-নিসা: ৩৬
আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে কুরআন ও সহীহ হাদিসে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বিশ্বাস করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا
অর্থ: “আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামসমূহের মাধ্যমে ডাকো।” সূরা আল-আ’রাফ: ১৮০
তাওহীদের বিপরীত হলো শিরক। শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না।” সূরা আন-নিসা: ৪৮
শিরক মানুষের সমস্ত নেক আমল ধ্বংস করে দেয় এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়।
তাওহীদ মানুষকে শেখায় যে সকল ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, সে মানুষের বা মিথ্যা শক্তির ভয় থেকে মুক্ত থাকে।
তাওহীদ মানুষকে রিয়া, লোক দেখানো ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে।
তাওহীদ মানুষকে সত্যবাদী, আমানতদার ও দায়িত্বশীল বানায়।
তাওহীদের ভিত্তিতে মুসলমানরা এক উম্মাহ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়।
বিশেষ করে তাওহীদ বিষয়ক সূরা যেমন:
আল্লাহকে যত বেশি জানা যাবে, তত বেশি তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও ভয় সৃষ্টি হবে।
যে কাজ তাওহীদের পরিপন্থী, তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাসূল ﷺ অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করতেন এবং উম্মতকেও তা শিক্ষা দিয়েছেন।
সৎ সঙ্গ ঈমান ও তাওহীদকে শক্তিশালী করে।
সম্মানিত উপস্থিতি, তাওহীদ হলো ইসলামের প্রাণ, ঈমানের ভিত্তি এবং জান্নাত লাভের প্রধান উপায়। সকল নবী-রাসূল মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন। তাই আমাদের উচিত বিশুদ্ধ তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা, শিরক থেকে বেঁচে থাকা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ তাওহীদের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন এবং শিরকের সব প্রকার থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ