আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হেদায়াতের কিতাব

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি মানবজাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের ওপর আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর নাযিল করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াতের উৎস হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। কুরআন শিক্ষা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র আল-কুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াতের উৎস। তাই কুরআন শিক্ষা, সহিহ তিলাওয়াত এবং এর ওপর আমল করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।


আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ আসমানি কিতাব

মহান আল্লাহ যুগে যুগে বিভিন্ন নবীর ওপর বিভিন্ন আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন।

  • হযরত মূসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত
  • হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর
  • হযরত ঈসা (আ.)-এর ওপর ইনজিল
  • সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর পবিত্র আল-কুরআন

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আগমনের মাধ্যমে নবুওয়তের ধারা সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আগমন করবেন না। তবে তাঁর ওপর অবতীর্ণ কুরআনুল কারিম কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হেদায়াতের একমাত্র অবিকৃত আসমানি গ্রন্থ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে।


আলেমগণ নবীদের উত্তরসূরি

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«العلماء ورثة الأنبياء»

অর্থ: “আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)

অতএব, নবী না এলেও আল্লাহর দ্বীন প্রচার, কুরআনের শিক্ষা বিস্তার এবং মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আলেমদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।


প্রকৃত আলেমদের পরিচয়

যারা প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করেন, তারাই সত্যিকারের আলেম।

তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো—

  • সর্বাবস্থায় সত্য কথা বলা।
  • কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী বিচার করা।
  • নিজের জীবনে কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করা।
  • মানুষকে কুরআনের পথে আহ্বান করা।
  • বিদআত ও ভ্রান্ত আকীদা থেকে মানুষকে সতর্ক করা।

কুরআন শিক্ষা করা কেন ফরজ?

ইসলামে নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তেমনি কুরআন শিক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহান আল্লাহর প্রথম ওহি ছিল—

﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ﴾

“পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।”
— (সূরা আলাক: ১)

সহিহভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কারণ ভুল তিলাওয়াত অর্থ বিকৃত করতে পারে এবং ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট করে।


কুরআনের হক আদায় করে তিলাওয়াত

মহান আল্লাহ বলেন—

﴿الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ﴾

“যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে; তারাই এর প্রতি সত্যিকার ঈমান রাখে।”
— (সূরা আল-বাকারা: ১২১)

অতএব, শুধু কুরআন পড়াই যথেষ্ট নয়; সহিহ তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং আমল করাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়।


কুরআন মানবজাতির হেদায়াতের কিতাব

মহান আল্লাহ বলেন—

﴿ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ﴾

“এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত।”
— (সূরা আল-বাকারা: ২)

কুরআন শুধু তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সকল ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশনাই প্রকৃত সফলতার পথ।


আমাদের করণীয়

  • প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা।
  • সহিহ তাজবীদসহ কুরআন শিক্ষা করা।
  • কুরআনের অর্থ ও তাফসীর অধ্যয়ন করা।
  • কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
  • পরিবার ও সন্তানদের কুরআন শিক্ষা নিশ্চিত করা।
  • সমাজে কুরআনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া।

উপসংহার

পবিত্র আল-কুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত আসমানি কিতাব। এটি কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াতের উৎস। তাই আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হলো কুরআন সহিহভাবে শেখা, নিয়মিত তিলাওয়াত করা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।