
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ. الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম, সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, প্রিয় ভাই ও বোনেরা—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাদের সবাইকে আজ এই বরকতময় দাওয়াতি ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে একত্রিত হওয়ার তাওফীক দান করেছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দিশারী, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর।
প্রিয় উপস্থিতি,
আল-আনফাল ফাউন্ডেশন শুধু একটি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ সমাজ গড়ার একটি দাওয়াতি ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য মানুষকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া, কুরআনের আলোয় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে গড়ে তোলা এবং মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
আজকের এই অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় হলো—
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমরা এমন এক সময় অতিক্রম করছি, যখন মানুষের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি আছে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি আছে, কিন্তু অনেকের অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অর্থ, পদ-পদবি ও দুনিয়ার মোহ মানুষের চিন্তা ও জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অথচ একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, তার পদ নয়—তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার ঈমান।
যদি ঈমান ঠিক থাকে, তবে জীবনের সব প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষ সফল হতে পারে। আর যদি ঈমান দুর্বল হয়ে যায়, তবে বাহ্যিক সফলতা মানুষকে প্রকৃত মুক্তি দিতে পারে না।
আজকের এই আলোচনা থেকে আমরা জানার চেষ্টা করব—
আসুন, আমরা মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শুনি, নিজের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করি এবং আজকের এই মজলিস থেকে অন্তত একটি ভালো আমল নিজের জীবনে বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্প করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এই আলোচনা কবুল করুন, আমাদের অন্তরকে ঈমানের নূরে আলোকিত করুন এবং আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
ঈমান অর্থ—
অন্তরে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী আমলের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা।
অর্থাৎ শুধু মুখে “আমি মুসলমান” বললেই ঈমান পূর্ণ হয় না; বরং অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং বাস্তব জীবনের আমল—এই তিনটির সমন্বয়েই প্রকৃত ঈমান গঠিত হয়।
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান
২. ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান
৩. আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
৪. রাসূলগণের প্রতি ঈমান
৫. আখিরাতের প্রতি ঈমান
৬. তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ.
অর্থ: হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাত এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।” (সহীহ মুসলিম)
মহান আল্লাহ বলেন—
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَلَا هَضْمًا.
অর্থ: “যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে কোনো জুলুম বা বঞ্চনার ভয় করবে না।” (সূরা ত্ব-হা: ১১২)
সুতরাং নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, দান-সদকা—সবকিছুর ভিত্তি হলো ঈমান।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ.
অর্থ: “যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত।” (সূরা লুকমান: ৮)
আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ.
অর্থ: “যে মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করলাম এবং তাকে এমন নূর দিলাম যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে।” (সূরা আল-আনআম: ১২২)
ঈমান মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, চরিত্রকে সুন্দর করে এবং সঠিক পথ দেখায়।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
শুধু মুখে ঈমানের দাবি করলেই হবে না। প্রকৃত ঈমানের কিছু বাস্তব দাবি রয়েছে।
আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ.
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।” (সূরা আন-নিসা: ৫৯)
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ.
অর্থ: “তোমরা সালাত কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।” (সূরা আল-বাকারা: ৪৩)
যে ঈমান হৃদয়ে প্রবেশ করে, তা মানুষকে ইবাদতের দিকে পরিচালিত করে।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ.
অর্থ: “প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের জান-মাল দ্বারা সংগ্রাম করে।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৫)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ.
অর্থ: “তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসে।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
ঈমান মানুষকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার থেকে দূরে রাখে এবং ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا.
অর্থ: “মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর আলোচনা হলে তাদের অন্তর ভীত হয় এবং তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।” (সূরা আল-আনফাল: ২)
প্রতিটি নেক আমল ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং গুনাহ ঈমানকে দুর্বল করে দেয়।
আল্লাহর স্মরণ হৃদয়কে জীবিত রাখে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে।
ভালো বন্ধু মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়, আর খারাপ বন্ধু ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। অর্থ-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি, পদ-পদবি—সবকিছু একদিন রেখে যেতে হবে। কিন্তু যদি ঈমান নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারি, তবে সেটিই হবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সফলতা।
আসুন, আমরা সবাই নিজেদের ঈমানকে শুদ্ধ করি, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করি এবং ঈমানের দাবিগুলো বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করি।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ, দৃঢ় ও অটল ঈমান দান করুন। ঈমানের উপর জীবন অতিবাহিত করার এবং ঈমানের সাথেই মৃত্যুবরণ করার তাওফীক দান করুন। আমাদের পরিবার, সমাজ ও উম্মাহকে ঈমানের নূরে আলোকিত করুন।
آمين يا رب العالمين. وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Manage your cookie preferences below:
Essential cookies enable basic functions and are necessary for the proper function of the website.
These cookies are needed for adding comments on this website.
These cookies are used for managing login functionality on this website.
Statistics cookies collect information anonymously. This information helps us understand how visitors use our website.
Google Analytics is a powerful tool that tracks and analyzes website traffic for informed marketing decisions.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
Marketing cookies are used to follow visitors to websites. The intention is to show ads that are relevant and engaging to the individual user.
Google Maps is a web mapping service providing satellite imagery, real-time navigation, and location-based information.
Service URL: policies.google.com (opens in a new window)
You can find more information in our Cookie Policy and .