ঈদুল ফিতরের খুতবা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খুতবা। এই খুতবায় আরবি খুতবা, বাংলা বক্তব্য, কুরআনের আয়াত, সহিহ হাদিস এবং ঈদের শিক্ষা একসাথে উপস্থাপন করা হয়েছে।
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ، فَاتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ.
বাংলা:
আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে যথাযথ ভয় করুন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করুন।
সম্মানিত মুসল্লীগণ!
আজ আনন্দের দিন, কৃতজ্ঞতার দিন এবং আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ের দিন। এক মাস রমজানের সিয়াম, কিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের পর আল্লাহ তাআলা আমাদের এই ঈদের আনন্দ দান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
অর্থ:
“যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করো, আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য তাঁর তাকবীর ঘোষণা করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
ঈদের আনন্দ নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার কিংবা বাহ্যিক সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়।
হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন—
لَيْسَ الْعِيدُ لِمَنْ لَبِسَ الْجَدِيدَ، إِنَّمَا الْعِيدُ لِمَنْ خَافَ الْوَعِيدَ
অর্থ:
ঈদ তার জন্য নয় যে নতুন কাপড় পরেছে; প্রকৃত ঈদ তার জন্য, যে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করেছে।
রমজানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো তাকওয়া।
আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ… لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
রাসূল ﷺ ঈদের নামাজের আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
فرض رسول الله ﷺ زكاة الفطر طهرةً للصائم من اللغو والرفث وطعمةً للمساكين.
অর্থ:
রাসূল ﷺ সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন, যাতে রোযাদার অনর্থক কথা ও ভুলত্রুটি থেকে পবিত্র হয় এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা হয়।
(আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯; হাসান)
ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
অর্থ:
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।
(সহিহ বুখারি)
এক ব্যক্তি রমজানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেন, কুরআন তিলাওয়াত করলেন। কিন্তু ঈদের পর সব ইবাদত ছেড়ে দিলেন।
এটি এমন একজন শিক্ষার্থীর মতো, যে সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষার দিন খাতা জমা না দিয়েই চলে গেল।
রমজানের প্রকৃত সফলতা হলো—ঈদের পরও আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা।
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ.
الله أكبر الله أكبر الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.
রাসূল ﷺ বলেছেন—
أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ
অর্থ:
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়।
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنَّا صِيَامَنَا وَقِيَامَنَا وَرُكُوعَنَا وَسُجُودَنَا وَسَائِرَ أَعْمَالِنَا، وَاجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَّقِينَ، وَأَعِدْ عَلَيْنَا رَمَضَانَ أَعْوَامًا كَثِيرَةً وَأَزْمِنَةً مَدِيدَةً، وَاغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ، الْأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْأَمْوَاتِ.
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের রোযা, নামাজ, রুকু, সিজদা ও সকল নেক আমল কবুল করুন। আমাদের মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত করুন। বহু বছর আমাদের রমজান পাওয়ার তাওফিক দিন। সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমীন।