بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد،
সম্মানিত উপস্থিত মুসল্লিবৃন্দ, প্রিয় ঈমানদার ভাই ও বোনেরা!
আজকের আলোচনার বিষয় “ইসলামী নেতৃত্বে যুবকদের ভূমিকা”।
যুবকরাই একটি জাতির প্রাণশক্তি। যে জাতির যুবসমাজ ঈমান, তাকওয়া, জ্ঞান ও আদর্শে সমৃদ্ধ হয়, সেই জাতি উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়। আর যে জাতির যুবকরা পথভ্রষ্ট হয়, সে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى
“তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল; আর আমি তাদের হিদায়াত আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম।”
(সূরা আল-কাহফ: ১৩)
আসহাবে কাহফ ছিলেন আদর্শ যুবক। চারপাশে শিরক ও অন্যায় থাকলেও তারা ঈমানকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। আল্লাহ তাদের ইতিহাস কুরআনে চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রথম দিকের অধিকাংশ সাহাবিই ছিলেন যুবক।
হযরত আলী (রা.)
যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)
মুসআব ইবন উমাইর (রা.)
উসামা ইবন যায়েদ (রা.)
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.)
তাঁরা ইসলামের জন্য জীবন, সম্পদ ও যৌবন উৎসর্গ করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ… وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ
“সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন… তাদের একজন হলো সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে উঠেছে।”
(সহীহ বুখারী: ৬৬০, সহীহ মুসলিম: ১০৩১)
এটি যুবকদের জন্য এক বিরাট সম্মান।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لَا تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ… وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ
“কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের পা নড়বে না যতক্ষণ না তাকে তার যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(জামে তিরমিযী: ২৪১৭, হাসান)
অতএব, যৌবন আল্লাহর বড় আমানত।
ইসলামী নেতৃত্ব ক্ষমতার নাম নয়; এটি আমানত।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا
“আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে।”
(সূরা আন-নিসা: ৫৮)
একজন মুসলিম যুবনেতার মধ্যে থাকতে হবে—
বিশুদ্ধ ঈমান
তাকওয়া
সততা ও আমানতদারিতা
জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ
সুন্দর চরিত্র
ধৈর্য
ন্যায়বিচার
দাওয়াতি মানসিকতা
আল্লাহ বলেন—
إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ
“নিশ্চয়ই এই কুরআন সর্বোত্তম পথের দিশা দেয়।”
(সূরা আল-ইসরা: ৯)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।”
(ইবন মাজাহ: ২২৪, অর্থগতভাবে সহীহ)
রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
“আমি উত্তম চরিত্র পূর্ণাঙ্গ করতে প্রেরিত হয়েছি।”
(মুসনাদ আহমদ)
একজন মুসলিম যুবক সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
মুসআব ইবন উমাইর (রা.)
মদীনায় ইসলামের প্রথম দাঈ হিসেবে তিনি অসাধারণ নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তাঁর দাওয়াতের ফলেই মদীনার বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়।
উসামা ইবন যায়েদ (রা.)
মাত্র প্রায় ১৮ বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে একটি বিশাল সেনাবাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন। এটি প্রমাণ করে যে যোগ্যতা থাকলে যুবকদের ওপর বড় দায়িত্ব অর্পণ করা ইসলামের শিক্ষা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার
মাদকাসক্তি
অশ্লীলতা
সময়ের অপচয়
দ্বীনি জ্ঞানের অভাব
ইসলামবিদ্বেষী অপপ্রচার
এসব থেকে বাঁচতে হলে কুরআন, সুন্নাহ, সৎ সঙ্গ এবং আল্লাহর স্মরণকে আঁকড়ে ধরতে হবে।
আমরা এমন যুবসমাজ গড়ব—
যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা করবে।
কুরআন শিখবে ও শেখাবে।
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
সমাজে শান্তি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেবে।
ইসলামী নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করবে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
যুবসমাজ যদি নিজেদের আল্লাহর পথে পরিচালিত করে, তাহলে পরিবার বদলাবে, সমাজ বদলাবে, দেশ বদলাবে এবং উম্মাহ আবারও নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের যুবসমাজকে ঈমান, তাকওয়া, ইলম ও আমলের মাধ্যমে আদর্শ ইসলামী নেতৃত্ব গড়ার তাওফীক দান করুন।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.