আল-আনফাল ফাউন্ডেশন

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের করণীয়

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا…

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। যাকে আল্লাহ হিদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না।


ভূমিকা

ইসলামী আন্দোলন কোনো সাধারণ সংগঠন নয়; এটি নবী-রাসূলদের মিশনের ধারাবাহিকতা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ
(সূরা আলে ইমরান: ১০৪)

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।”


১. ইখলাস বা একনিষ্ঠতা

ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শর্ত হলো ইখলাস। কাজ হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
“সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (বুখারি, মুসলিম)

👉 যদি নিয়ত শুদ্ধ না হয়, তাহলে বড় আন্দোলনও আল্লাহর কাছে মূল্যহীন হয়ে যায়।

উদাহরণ:একজন কর্মী যদি সমাজে প্রশংসা পাওয়ার জন্য কাজ করে, তবে তার শ্রম যত বড়ই হোক, তা আখিরাতে শূন্য হয়ে যেতে পারে।


২. ধৈর্য ও দৃঢ়তা (সবর)

আন্দোলনের পথ কখনো সহজ নয়। বাধা, কষ্ট, উপহাস আসবেই।

আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا
(সূরা আলে ইমরান: ২০০)

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধরো, একে অপরকে ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দাও এবং দৃঢ়ভাবে অবস্থান করো।”

উদাহরণ:মক্কায় সাহাবীরা নির্যাতনের শিকার হয়েও দাওয়াত থেকে পিছিয়ে যাননি। বিলাল (রাঃ), খাব্বাব (রাঃ) তাদের ঈমানের জন্য কষ্ট সহ্য করেছেন।


৩. দাওয়াতের শিষ্টাচার ও হিকমাহ

আল্লাহ বলেন—

ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
(সূরা আন-নাহল: ১২৫)

অর্থ: “তোমার রবের পথে আহ্বান কর হিকমাহ ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে।”

👉 কঠোরতা নয়, বরং সুন্দর আচরণই দাওয়াতকে গ্রহণযোগ্য করে।

উদাহরণ:নবী ﷺ তায়েফে পাথর খেয়েও তাদের জন্য দোয়া করেছেন, অভিশাপ দেননি।


৪. ঐক্য ও সংগঠনের আনুগত্য

ইসলামী আন্দোলনে শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ বলেন—

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
(সূরা আলে ইমরান: ১০৩)

অর্থ: “তোমরা সবাই আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না।”

👉 নেতৃত্বের সাথে শৃঙ্খলা না থাকলে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।


৫. ত্যাগ ও কুরবানী

ইসলামী আন্দোলনের পথে ত্যাগ অপরিহার্য।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

أفضلُ الجهادِ كلمةُ حقٍّ عندَ سلطانٍ جائرٍ
“সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা।” (আবু দাউদ)

উদাহরণ:হিজরতের সময় সাহাবীরা তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ সব ছেড়ে মদিনায় গিয়েছিলেন।


৬. আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া

যে কর্মী নিজের চরিত্র ঠিক না করে, তার দাওয়াত দুর্বল হয়।

আল্লাহ বলেন—

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ
(সূরা আন-নাহল: ১২৮)

অর্থ: “আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।”


উপসংহার

প্রিয় ভাইয়েরা, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়া শুধু একটি পরিচয় নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি আমানত।

আমাদের করণীয় হলো—

  • ইখলাস বজায় রাখা
  • ধৈর্য ধারণ করা
  • সুন্দর দাওয়াত দেওয়া
  • সংগঠনের শৃঙ্খলা মানা
  • আত্মশুদ্ধি অর্জন করা

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের সঠিক সৈনিক হিসেবে কবুল করুন। আমিন।


وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ