إِنَّ الْحَمْدَ لِلّٰهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللّٰهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أما بعد ، فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللّٰهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ ﷺ، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلَّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ.
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার জন্য। তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, সকল ক্ষমতার মালিক এবং বান্দার একমাত্র আশ্রয়স্থল। আমরা তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাই।
তাওয়াক্কুল হলো ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর অর্থ হলো—সকল বৈধ উপায় অবলম্বন করার পর ফলাফলের ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা এবং বিশ্বাস রাখা যে, তিনি যা ফয়সালা করবেন তাই সর্বোত্তম।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
অর্থ: “তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা কর।” — (সূরা আল-মায়িদাহ: ২৩)
আরও বলেন:
وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
অর্থ: “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।”— (সূরা আত-তালাক: ৩)
অনেকেই মনে করেন, কোনো চেষ্টা-প্রচেষ্টা ছাড়াই বসে থাকাই তাওয়াক্কুল। এটি ভুল ধারণা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ، تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا
অর্থ: “তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথার্থ ভরসা করতে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে এমনভাবে রিজিক দিতেন যেমন পাখিদের দেন; তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।” — (তিরমিযী)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে পাখিরা বাসায় বসে থাকে না; তারা রিজিকের সন্ধানে বের হয়। অর্থাৎ চেষ্টা ও তাওয়াক্কুল একসাথে চলতে হবে।
যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করেন। আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ দেন:
يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
অর্থ: “হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।” — (সূরা আল-আম্বিয়া: ৬৯)
ফিরআউনের বাহিনী সামনে এবং সমুদ্র পেছনে। তখন তিনি বললেন:
كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
অর্থ: “কখনো নয়! নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার রব আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” — (সূরা আশ-শু’আরা: ৬২)
হিজরতের সময় গারে সাওরে অবস্থানকালে শত্রুরা খুব কাছে চলে এলে তিনি আবু বকর (রা.)-কে বলেছিলেন:
لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
অর্থ: “চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” — (সূরা আত-তাওবাহ: ৪০)
যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
তাওয়াক্কুল মানুষের দুশ্চিন্তা, ভয় ও হতাশা দূর করে।
আল্লাহর ওপর ভরসা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তাওয়াক্কুলকারী ব্যক্তি বিপদে ভেঙে পড়ে না; বরং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকে।
১. আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
২. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বুঝে অধ্যয়ন করা।
৩. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা।
৪. বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা।
৫. অতীতের আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা।
৬. হারাম ও অবৈধ উপায় পরিহার করে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা।
তাওয়াক্কুল মুমিনের শক্তি, সাহস এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর সত্যিকার অর্থে ভরসা করে, তার জীবনে হতাশা স্থান পায় না। সে জানে, আল্লাহ যা করেন তা বান্দার কল্যাণের জন্যই করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সত্যিকার তাওয়াক্কুল অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ।