بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أما بعد:
সম্মানিত ঈমানদার ভাইয়েরা,
আমি নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে মহান আল্লাহ তা’আলার তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করছি। কারণ তাকওয়াই হলো দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আজকের আলোচনার বিষয়—“আলেমদের মর্যাদা”।
আলেমরা হলেন নবীদের উত্তরসূরি। তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান ধারণ করেন, মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেন, হালাল-হারাম শিক্ষা দেন এবং সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেন। যে সমাজ আলেমদের সম্মান করে, সে সমাজ ঈমান, আমল ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়। আর যে সমাজ আলেমদের অবমূল্যায়ন করে, সেখানে অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে।
মহান আল্লাহ বলেন—
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ
“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন।” (সূরা আল-মুজাদিলা: ১১)
আরও বলেন—
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
“বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না—তারা কি সমান হতে পারে?” (সূরা আয-যুমার: ৯)
আল্লাহ তাআলা আরও ঘোষণা করেন—
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে আলেমরাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।” (সূরা ফাতির: ২৮)
এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, প্রকৃত আলেমের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত উচ্চ।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ
“নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীগণ দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি; তাঁরা রেখে গেছেন জ্ঞান। যে ব্যক্তি সেই জ্ঞান অর্জন করল, সে বিরাট সম্পদ লাভ করল।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)
এটি আলেমদের সর্বোচ্চ সম্মানের দলিল।
আল্লাহ বলেন—
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
“যদি তোমরা না জান, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।” (সূরা আন-নাহল: ৪৩)
অতএব দ্বীনের বিষয়ে অনুমান নয়; আলেমদের কাছে ফিরে যেতে হবে।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ
“আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যু দ্বারা জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন।” (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)
যখন আলেম থাকবে না, তখন অজ্ঞ লোকেরা নেতা হবে, নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।
আলেম হওয়া যেমন মর্যাদার বিষয়, তেমনি বড় দায়িত্বের বিষয়।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى…
“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত সত্য গোপন করে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫৯)
তাই প্রকৃত আলেম কখনো সত্য গোপন করেন না, মানুষের মন রক্ষার জন্য দ্বীন পরিবর্তন করেন না।
১. আলেমদের যথাযথ সম্মান করা।
২. তাঁদের থেকে সহিহ ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা।
৩. কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আলেমদের অনুসরণ করা।
৪. আলেমদের বিরুদ্ধে অপবাদ, বিদ্বেষ ও সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি থেকে বিরত থাকা।
৫. তাঁদের জন্য দোয়া করা এবং দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করা।
এক ব্যক্তি একবার মহান ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “ইলম অর্জন করা কি নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম?”
তিনি উত্তর দিলেন, “যদি সেই ইলম মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে, তাহলে তা বহু নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।”
এ কারণেই সালাফে সালেহীন ইলমকে উম্মাহর প্রাণ হিসেবে দেখতেন।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই যাচাই ছাড়া দ্বীনের বিষয়ে মন্তব্য করেন, আলেমদের নিয়ে বিদ্রূপ করেন কিংবা যোগ্য আলেম ও অযোগ্য বক্তার পার্থক্য না করেই অনুসরণ করেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। মুসলিম সমাজকে নির্ভর করতে হবে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক, আমানতদার ও তাকওয়াবান আলেমদের ওপর।
প্রিয় মুসল্লিগণ,
আলেমদের সম্মান করা মানে দ্বীনের সম্মান করা। তবে মনে রাখতে হবে, সম্মান অন্ধ অনুসরণ নয়। প্রত্যেক আলেমই মানুষ; ভুল হতে পারে। তাই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে রেখে যোগ্য ও বিশ্বস্ত আলেমদের থেকে দ্বীন শিক্ষা গ্রহণ করাই একজন মুসলমানের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহিহ ইলম অর্জনের তাওফীক দান করুন, প্রকৃত আলেমদের সম্মান করার তাওফীক দান করুন এবং তাঁদের মাধ্যমে উম্মাহকে হিদায়াত দান করুন।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.